
বাঁকুড়া: হাসপাতাল চত্বর থেকে একে-একে গায়েব হয়ে গিয়েছে একাধিক প্রাচীন গাছ। সেই গাছ গায়েবের অভিযোগ পেতেই শুরু হয় স্বাস্থ্য দফতরের বিভাগীয় তদন্ত। আর তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট হাতে আসতেই ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিককে সাত দিনের কম্পালসারি ছুটিতে পাঠালো স্বাস্থ্য দফতর। ঘটনা বাঁকুড়ার কোতুলপুরের।
বাঁকুড়ার কোতুলপুরের গোগড়া গ্রামীণ হাসপাতাল চত্বর জুড়ে রয়েছে অসংখ্য গাছ। এই গাছগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি বেশ পুরানো। সম্প্রতি গাছগুলির একাংশ গায়েব হয়ে যায় বলে অভিযোগ। কেউ বা কারা এই গাছ কেটে অন্যত্র সরিয়ে ফেলে। অভিযোগ পেতেই ঘটনার তদন্তে নামে বিষ্ণুপুর স্বাস্থ্য জেলা। বিষ্ণুপুর স্বাস্থ্য জেলার ডেপুটি মূখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ২ এর নেতৃত্বে একটি তদন্তকারী দল গঠন করে শুরু হয় গাছ চুরির তদন্ত। সেই তদন্ত কমিটি প্রাথমিক রিপোর্ট দিতেই কোতুলপুরের বিএমওএইচ চিকিৎসক দেবাঞ্জন ঘোষকে সাত দিনের কম্পালসারি ছুটিতে পাঠায় স্বাস্থ্য দফতর। চিঠিতে প্রশাসনিক কারনের কথা লেখা রয়েছে।
বিএমওএইচকে এভাবে স্বাস্থ্য দফতর কম্পালসারি ছুটিতে পাঠানোয় বিভিন্ন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সুনির্দিষ্টভাবে না হলেও পরোক্ষে স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারনা গাছ চুরি কাণ্ডে বিএমওএইচ এর প্রত্যক্ষ যোগ খুঁজে পাওয়াতেই তাঁকে কম্পালসারি ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। অনেকের ধারনা হাসপাতাল চত্বরে থাকা বিভিন্ন সম্পত্তি বিএমওএইচ এর হেফাজতেই থাকে। স্বাভাবিকভাবে গাছ চুরির ঘটনার কোপ পড়েছে খোদ বিএমওএইচ-এর ঘাড়েই। বিএমওএইচকে কম্পালসারি ছুটিতে পাঠানোর কথা স্বীকার করে নিলেও তার কারণ নিয়ে সুস্পষ্ট কিছু জানাতে চায়নি স্বাস্থ্য দফতর। এদিকে এভাবে হাসপাতাল চত্বর থেকে গাছ চুরির ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। দ্রুত ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
বিষ্ণুপুর স্বাস্থ্য জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গোপাল দাস বলেন, “বড় বড় দুটো গাছ চুরি হয়েছে। আমি টিম বানিয়ে দেখতে বলেছিলাম। রিপোর্টে দেখা গেল সত্যি সত্যি চুরি হয়ে গিয়েছে গাছ।”