
বাঁকুড়া: দক্ষিণ ২৪ পরগণার বিষ্ণুপুর থেকে গাড়ি ভাড়া করে এনে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের জঙ্গলে গাড়ির মালিককে খুনের অভিযোগ উঠল মৃতের দুই আত্মীয়ের বিরুদ্ধে। বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের জঙ্গলে ওই গাড়ি মালিকের অর্ধদগ্ধ দেহ উদ্ধার হতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। মৃতদেহটি ময়না তদন্তে পাঠানোর পাশাপাশি গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ।
বিষ্ণুপুর থানা ও মৃতের পরিবার জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগণার বিষ্ণুপুর থানা এলাকার বাসিন্দা রামপ্রসাদ অধিকারীর গাড়ি ভাড়া দেওয়ার ব্যবসা রয়েছে। গত ১৬ অগাষ্ট রামপ্রসাদ অধিকারীর আত্মীয় বংশী অধিকারী বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে আসার জন্য রামপ্রসাদের কাছে গাড়ি ভাড়া নেন। ওই গাড়িতে চড়ে বংশী অধিকারী ছাড়াও চালক চিরঞ্জিত অধিকারী এবং গাড়ির মালিক রামপ্রসাদ অধিকারী ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে ১৬ অগাষ্ট গাড়ি ভাড়া করে ৩ জন বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর রওনা দিলেও ১৭ অগাষ্ট রামপ্রসাদ অধিকারী ছাড়া অপর ২ জন দক্ষিণ ২৪ পরগণার বিষ্ণুপুরে ফিরে যান। রামপ্রসাদ অধিকারীর ব্যাপারে পরিবারের লোকজন জানতে চাইলে চিরঞ্জিত ও বংশী দুজনেই দাবি করেন রামপ্রসাদ বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে গাড়ি থেকে নেমে গেছেন। ওইদিন থেকেই পরিবারের লোকজন রামপ্রসাদকে মোবাইল ফোনে না পাওয়ায় সন্দেহ বাড়ে। এরপর রামপ্রসাদের লোকজন গাড়ি চালক চিরঞ্জিতকে সঙ্গে নিয়ে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে এসে রামপ্রসাদের খোঁজ শুরু করেন। দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পরেও রামপ্রসাদের কোনো খোঁজ না মেলায় রামপ্রসাদের স্ত্রী বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর থানায় হাজির হয়ে চিরঞ্জিত ও বংশীর বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ আনেন। পুলিশ হাতের কাছে চিরঞ্জিতকে পেয়ে তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
জানা গিয়েছে, লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদের মুখে চিরঞ্জিত অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে থাকায় পুলিশ জেরা চালিয়ে যেতে থাকে। অবশেষে আজ সকালে চিরঞ্জিত পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে বিষ্ণুপুরের গভীর জঙ্গলে গিয়ে রামপ্রসাদের মৃতদেহ দেখিয়ে দেয়। এরপরই পুলিশ জঙ্গল থেকে অর্ধদগ্ধ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠায়। রামপ্রসাদকে কীভাবে এবং কেন খুন করা হল তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।ঘটনায় অপর অভিযুক্ত বংশী অধিকারীর খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ।
মৃত রামপ্রসাদের স্ত্রীর দাবি, রামপ্রসাদ গাড়ি ভাড়া দেওয়ার ব্যবসা করে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হয়ে উঠেছিলেন। সেই কারণে পরিকল্পনা করে তাঁকে খুন করেছে তাঁরই আত্মীয় বংশী ও চিরঞ্জিত। গোটা ঘটনায় দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মৃতের পরিবার।