
বাঁকুড়া: বেহাল দশা সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের। স্টোররুমে সারি সারি দিয়ে রাখা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ, রান্নার মশলায় কিলবিল করছে পোকা। বাঁকুড়ার ইন্দুপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সরেজমিনে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ ছাতনার বিধায়কের। হাসপাতালের দশা দেখে রীতিমতো ক্ষুব্ধ তিনি। কেন এমন বেহাল পরিস্থিতি প্রশ্ন তুলে হাসপাতালের কর্মীদের কড়া ধমকও দেন তিনি।
বাঁকুড়ার এই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপর শুধুমাত্র ইন্দপুর ব্লকই নয় পার্শ্ববর্তী তালডাংরা, ছাতনা, বাঁকুড়া ১ নম্বর ও খাতড়া ব্লকের একাংশের মানুষও নির্ভরশীল। সেই হাসপাতালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম বেনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এবার খোদ বিধায়কের চোখেও ধরা পড়ল সেই বেনিয়মের ছবি। গতকাল বিকেলে আচমকাই ওই হাসপাতালের যাবতীয় ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে স্থানীয় ইন্দুপুরের বিডিওকে সঙ্গে নিয়ে হাজির হন ছাতনার বিধায়ক সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায়। হাসপাতালের রান্নাঘরে ঢুকেই চক্ষু চড়কগাছ তাঁর। দেখা যায়, রোগীদের জন্য রান্না করা খাবারে যে মশলা ব্যবহার করা হচ্ছে, তাতে কিলবিল করছে পোকা।
এরপরই হাজির হন হাসপাতালের ওষুধের স্টোররুমে। যেখানে থরে থরে সাজানো রয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষধু। সরেজমিনে তদন্ত করে এমনই দাবি করেছেন বিধায়ক। তাঁর দাবি, সঠিক ওষুধের পাশাপাশি সেখানে রাখা রয়েছে প্রচুর মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ। হাসপাতালের ওয়ার্ডে হানা দিয়ে সেখানেও ব্যাপক বেনিয়মের ছবি চোখে পড়ে বিধায়কের। তাঁর দাবি, পাশাপাশি বেডে রাখা হয়েছে ম্যালেরিয়া ও ডায়েরিয়ার রোগীকে। আরও অভিযোগ, সন্দেহজনক বেশ কয়েকজন ডেঙ্গি বা ম্যালেরিয়ার রোগীদের মশারি ছাড়াই রাখা হয়েছে হাসপাতালের বেডে। এখানেই শেষ নয়, হাসপাতালের অস্থায়ী কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে ব্যাপক আর্থিক বেনিয়মের অভিযোগও জানতে পারেন বলে দাবি করেছেন বিধায়ক।
গোটা বিষয়টি জেলা শাসক ও জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে জানিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক। হাসপাতালের এই বেনিয়মের কথা জানিয়ে আগামী দিনে ওই হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিককে বরখাস্ত করার পাশাপাশি তাঁর কঠোর শাস্তির জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী এমনকি খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে আবেদন করবেন বলেও জানিয়েছেন বিধায়ক।
এদিকে, হাসপাতালের এমন বেনিয়মের ছবি সামনে আসতেই রোগী ও রোগীর পরিজনদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। হাসপাতালের কর্মীরা গোটা ঘটনায় নিজেদের মতো করে সাফাই দিয়েছেন। হাসপাতালের বেডের অভাব সহ পরিকাঠামোগত সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর। একই সঙ্গে অন্যান্য অভিযোগগুলির যথাযথ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।