
বাঁকুড়া: জঙ্গলমহলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য সড়ক। বাঁকুড়া ঝাড়গ্রাম এই রাজ্য সড়ক প্রশস্তিকরণ ও নতুন করে নির্মাণের জন্য রাজ্য সরকারের কোষাগার থেকে খরচ হয়েছিল মোট ১৪০ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি সেই টাকা খরচ করে রাস্তা তৈরিও হয়েছিল। কিন্তু ২ বছর যেতে না যেতেই সেই সড়ক পরিণত হয়েছে মরণফাঁদে। সড়কের বিভিন্ন জায়গা হয়ে পড়েছে চলাচলের অযোগ্য। বিধায়ক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ এজন্য দূষছেন বিগত সরকারের দূর্নীতিকেই। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন রাইপুরের বিধায়ক।
বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রাম জেলাকে যুক্ত করেছে বাঁকুড়া ঝাড়গ্রাম রাজ্য সড়ক। শুধু তাই নয়, বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের তালডাংরা, সিমলাপাল, সারেঙ্গা, রাইপুর ও রানিবাঁধ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকার সঙ্গে বাঁকুড়া জেলার সদর শহরের যোগাযোগেরও অন্যতম প্রধান সড়ক এই বাঁকুড়া ঝাড়গ্রাম রাজ্য সড়ক। জঙ্গলমহলের বিভিন্ন রুটের কয়েকশো যাত্রীবাহী বাস চলাচলের পাশাপাশি প্রতিদিন বহু স্কুল বাস, ছোট গাড়ি, পণ্যবাহী গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স যাতায়াত করে এই রাস্তায়।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে এই সড়কের হাল বেহাল হয়ে পড়ায় সে সময় ১৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে পূর্ত দফতর। শুরু হয় রাস্তার সম্প্রসারণ ও পুনর্নির্মাণের কাজ। অভিযোগ, সেই কাজের মান এতটাই নিম্ন ছিল যে রাস্তার কাজ সম্পূর্ণ করার আগেই ওই সড়কের বিভিন্ন জায়গা নষ্ট হয়ে যায়। কোনওরকমে জোড়াতালি দিয়ে সেসময় কাজ সম্পূর্ণ করে দেয় বরাতপ্রাপ্ত সংস্থা। ২ বছর যেতে না যেতে এখন সেই রাস্তা যেন সাক্ষাৎ মরণফাঁদ। রাস্তা জুড়ে কোথাও এক ফুট কোথাও আবার ২ ফুট আড়াই ফুট গর্ত তৈরি হয়েছে। সেই গর্তে জল জমে তৈরি হয়েছে ছোট বড় ‘পুকুর’। ফলে ওই সড়কে দুর্ঘটনাই এখন যেন রোজনামচা। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, “রাস্তা এখন পুকুর হয়ে গিয়েছে। শুধু মাছ চাষ করলেই হয়।”
রাস্তার অধিকাংশ জায়গায় রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে বেরিয়ে পড়েছে রাস্তার বেসমেন্টে থাকা ছোট বড় পাথর। চলন্ত গাড়ির চাকায় সেই সব পাথর লেগে ছিটকে গিয়ে প্রায়শই ঘটছে দুর্ঘটনা। রাজ্যে পালাবদলের পর এখন সেই রাস্তারই হাল ফেরার অপেক্ষায় দিন গুণছেন জঙ্গলমহলের লক্ষ লক্ষ মানুষ।
রাইপুরের বিধায়ক ক্ষেত্রমোহন হাঁসদা গোটা ঘটনার জন্য বিগত সরকারের দুর্নীতিকে কাঠগোড়ায় তুলেছেন। তিনি জানানা, রাস্তার এই বেহাল অবস্থার কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে রাজ্যের সরকারের কাছে দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের আবেদন জানানো হয়েছে।