Bankura: একটা ছোট্ট গর্ত! আর সেই গর্তই বাঁচাচ্ছে একটা গোটা গ্রামকে

Bankura Tribal Village: পরিবারের পানীয় জল বা গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় জল সংগ্রহের জন্য একবিংশ শতকেও গ্রামের মানুষকে প্রায় ৩০০ মিটার ঝোপঝাড়ে ঢাকা পাহাড়ি দূর্গম পথ পেরিয়ে যেতে হয় দূরের ঝোরায়। ঝোরার ধারে থাকা ছোট্ট গর্ত থেকে সংগ্রহ করতে হয় প্রয়োজনীয় জল। গ্রামের মানুষের এমন জলসঙ্কটের কথা অজানা নয় প্রশাসনের।

Bankura: একটা ছোট্ট গর্ত! আর সেই গর্তই বাঁচাচ্ছে একটা গোটা গ্রামকে
পানীয় জলের সমস্যাImage Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী

Oct 13, 2026 | 7:54 PM

বাঁকুড়া: গ্রামে নলকূপ আছে। সেই নলকূপ দিয়ে জল পড়ে না। গ্রামে পাইপ লাইন বসেছে। কিন্তু সেই পাইপ লাইন দিয়েও মেলেনা জল। অগত্যা পানীয় জল থেকে শুরু করে গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় জল সংগ্রহ করতে প্রায় ৩০০ মিটার দূর্গম পথ পেরিয়ে যেতে হয় ঝোরার ধারে। সেখানেই থাকা একটি গর্তে জমে থাকা জলেই বছরের পর বছর জলের চাহিদা মেটায় গ্রামের মানুষ। না, এ ছবি রাজস্থানের কোনও গ্রামের নয়। এছবি বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের প্রত্যন্ত আদিবাসী গ্রাম কাওয়াডাঙ্গা কুলডাঙ্গা গ্রামের।

বাঁকুড়ার রানীবাঁধ ব্লকের জঙ্গলঘেরা প্রত্যন্ত গ্রাম কাওয়াডাঙ্গা কুলডাঙ্গা। ঘন জঙ্গলে ঢাকা ছোট্ট টিলার উপর ১৯ থেকে ২০ টি আদিবাসী পরিবারের বসবাস এই গ্রামে। একবিংশ শতকে সভ্যতার চুঁইয়ে পড়া আলো পৌঁছালেও টিলার খাড়া পাথুরে দূর্গম পথ পেরিয়ে গ্রামটিতে পৌঁছাতে পারেনি উন্নয়নের ছিটেফোঁটাও। প্রায় সারাবছর গ্রামের মানুষকে ভূগতে হয় তীব্র জলসঙ্কটে। গ্রামে একটি টিউবওয়েল থাকলেও সেই টিউবওয়েল থেকে জল মেলেনা।

বছর কয়েক আগে গ্রামে নলবাহিত পানীয় জল নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে মাটির নীচে পাইপ লাইন তৈরী করা হয়। তারপর অজানা কোনো এক কারনে সেই পাইপ লাইন সংযুক্ত করা হয়নি মূল লাইনের সঙ্গে। ফলে পরিবারের পানীয় জল বা গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় জল সংগ্রহের জন্য একবিংশ শতকেও গ্রামের মানুষকে প্রায় ৩০০ মিটার ঝোপঝাড়ে ঢাকা পাহাড়ি দূর্গম পথ পেরিয়ে যেতে হয় দূরের ঝোরায়। ঝোরার ধারে থাকা ছোট্ট গর্ত থেকে সংগ্রহ করতে হয় প্রয়োজনীয় জল। গ্রামের মানুষের এমন জলসঙ্কটের কথা অজানা নয় প্রশাসনের।

সঙ্কট মেটানোর জন্য প্রশাসনের কাছে বারেবারে আবেদন নিবেদন করেছেন গ্রামের মানুষ। কিন্তু সমস্যা নিয়ে গ্রামের মানুষ যতবার আবেদন করেন ততবারই দিন কয়েকের জন্য জলের ট্যাঙ্কার পাঠায় প্রশাসন। তারপর গ্রামের মানুষের ক্ষোভ কিছুটা প্রশমিত হলেই ফের বন্ধ হয়ে যায় পানীয় জলের ট্যাঙ্কার পাঠানো। অগত্যা ফের ঝোরার ধারের গর্ত থেকে জল সংগ্রহই যেন নিয়তিতে পরিণত হয় গ্রামের মানুষের কাছে। রাজ্যে সরকার বদলের পর অবশ্য এবার অবস্থা বদলের আশায় দিন গুণছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার দায় আগের সরকারের উপর চাপিয়ে আস্বাস দিয়েছেন এলাকার বিধায়ক তথা রাজ্যের ক্যাবিনেট মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুও।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us