
বাঁকুড়া: ‘কোন ব্রান্ডের তেল ব্যবহার করেন?’, ‘এই তেল খেলে তো ক্যান্সার হবে’, ‘খাবার ঢাকা দেওয়া নেই কেন?…’ এই রকমই একগুচ্ছ প্রশ্ন করলেন আধিকারিকরা। আর বিক্রেতারা কার্যত নিশ্চুপ। কেউ কেউ আবার আমতা-আমতা করে উত্তর দিলেন, ‘রোজ ঢাকা দেওয়াই থাকে স্যর’। আসলে সপ্তাহ দুই আগে কালোবাজারি রুখতে বাঁকুড়া শহরের চক বাজার এলাকায় একের পর এক দোকানে ঘুরে বিভিন্ন সামগ্রীর দাম ও মজুতের পরিমাণ খতিয়ে দেখেছিল এনফোর্সমেন্ট বিভাগ ও পুলিশ। এবার বাঁকুড়া শহরে একের পর এক হোটেল, রেস্তোঁরা ও বিভিন্ন খাবারের দোকানে হানা দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি খাবারের গুণগত মান খতিয়ে দেখলেন আধিকারিকরা।
সারা রাজ্যের পাশাপাশি বাঁকুড়া শহরেও রাস্তার দু’পাশে ও বাজার এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে খাবারের হোটেল,রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকান। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল এই খাবারের হোটেল, রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানগুলিতে কোনও রকম স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই তৈরি ও বিক্রি করা হয় খাবার। সেই খাবার তৈরির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর রাসায়নিক ও রঙ। ব্যবহার করা হয় নিম্নমানের ভোজ্য তেল ও মশলা। খাবার তৈরির পর সেই খাবার পণ্য হিসাবে দোকানে সাজানো থাকলেও তা ঢাকা দেওয়া হয়না বহু ক্ষেত্রে। ফলে মাছি ভনভন করতে থাকে খাবারে।
এবার এই বেনিয়ম রুখতেই বাঁকুড়া বাজারে কোমর বেঁধে নামলো এনফোর্সমেন্ট বিভাগ ও পুলিশ। বাঁকুড়া শহরের একপ্রান্ত থেকে অপরপ্রান্ত পর্যন্ত বাজার ও রাস্তার দুদিকে থাকা খাবারের দোকানগুলিতে হানা দিয়ে খাবার তৈরির প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে ব্যবহৃত সামগ্রীর মান এবং স্বাস্থ্যবিধি খতিয়ে দেখেন আধিকারিকেরা। বেনিয়ম চোখে পড়লে প্রথম দিন খাবারের দোকানদার ও ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেন আধিকারিকরা। এরপর একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে মোটা অঙ্কের জরিমানার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আধিকারিকেরা।
এ দিন আধিকারিকদের একজন বলেন, “জানেন না খাবার চাপা দিয়ে রাখতে হয়? বাড়িতে কি খাবার আলগা রাখেন?” আবার আর একটি দোকানে গিয়ে আরেক আধিকারিক বলেন, “কোন ব্র্যান্ডের তেল ব্যবহার করেন? সর্ষের তেল কিংবা নারকেল তেল ব্যবহার করুন। পাম তেলে ভাজলে ক্যান্সার হবে।”