
বাঁকুড়া: রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। আর সরকার পরিবর্তনের পর তৃণমূল পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতের শৌচালয়ের পাশে আধপোড়া বিপুল সংখ্যক নথি পড়ে থাকার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল বাঁকুড়ায়। একাধিক নথিতে আবাস প্রকল্পের উল্লেখ থাকায় প্রাথমিকভাবে স্থানীয়দের ধারণা, ওই প্রকল্পে পঞ্চায়েতের দুর্নীতি ঢাকতেই এইভাবে সরকারি নথি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ মানতে নারাজ তৃণমূল পরিচালিত ওই গ্রাম পঞ্চায়েত।
বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বারেবারে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ উঠেছিল। এর মধ্যে সর্বাধিক দুর্নীতি ও বেনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল আবাস প্রকল্পে। অভিযোগ, সরকারি ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে তৎকালীন শাসকদল তৃণমূলের ছোট, বড় ও মাঝারি নেতারা আবাস প্রকল্পে প্রকৃত উপভোক্তাদের নাম বাদ দিয়ে নিজেদের ঘনিষ্ঠদের প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন। এবার খোদ গ্রাম পঞ্চায়েত চত্বরে সেই আবাস প্রকল্পের নথিপত্র পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ উঠল তৃণমূল পরিচালিত বাঁকুড়ার দ্বারিকা গোঁসাইপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে। মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা এলাকার উন্নয়ন সংক্রান্ত একাধিক বিষয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতে আলোচনা করতে গেলে শৌচালয়ের পাশে বিপুল পরিমাণ নথি পুড়িয়ে ফেলার নমুনা দেখতে পান।
ছাই সরিয়ে বেশ কিছু আধপোড়া নথি উদ্ধার করলে দেখা যায় সেগুলিতে সরকারি আবাস প্রকল্পের নাম রয়েছে। এতেই বিজেপি কর্মীদের সন্দেহ তীব্র হয়। রাজ্যে পালাবদলের পর বিগত সরকারের আমলে ঘটে যাওয়া আবাস প্রকল্পের দুর্নীতির তথ্য প্রমাণ লোপাট করতেই নথিগুলি পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে বলে দাবি করেছে বিজেপি। স্থানীয় বিজেপি নেত্রী বৈশাখী বাগদী বলেন, “আবাস যোজনার নথি পোড়ানো হয়েছে। এই নথিগুলি পোড়ানোর কারণ কী? চুরি, দুর্নীতি ঢাকা দিতেই পোড়ানো হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। আমরা বিডিও-কে জানাব। সঠিক তদন্ত চাই।
কী বললেন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান?
যদিও অভিযোগ মানতে চায়নি গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান কার্তিক লোহার বলেন, “রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপি নেতারা এসে বললেন, আপনারা কাজ করুন, আমরা সহায়তা করব। সেইমতো কাজ করছি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ব্যানার, ফেস্টুন-সহ কিছু অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র মাসিরা পুড়িয়েছেন। তাতে আবাসের লিস্ট রয়েছে। লিস্ট পুড়লেও তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। অনলাইন পদ্ধতিতে কাজ হয়। ফলে সব তথ্য রয়েছে। আবাসে কোনও দুর্নীতি হয়নি। চাইলেই যে কেউ তালিকা দেখতে পারেন।”