
বাঁকুড়া: ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ কর্মীর বাবাকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ। সেই ঘটনায় ইন্দাস থানায় অভিযোগ দায়ের মৃতের স্ত্রীর। পরিবারের দাবি, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন রয়েছেন বিজেপি কর্মী। সূত্রের খবর ঘটনায় গ্রেফতার বিজেপির বুথ সভাপতি সহ মোট আট জন। ধৃতদের তোলা হয়েছে বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে। তবে এই ঘটনায় পুলিশ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, অভিযোগপত্রে বিজেপি কর্মী বলে উল্লেখ নেই কারও নাম। সকলেই দুষ্কৃতী। অন্যদিকে, মৃতের বৌদি বলেন, “বিজেপির লোক বাড়ি ঢুকে মেরে। আমার ভাইপো আন্দোলনে গিয়েছিল দিল্লিতে।”
গত ১৯ জুলাই দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন বাঁকুড়ার ইন্দাস থানার করিশুণ্ডা গ্রামের বাসিন্দা শেখ আবদুল হাফিজ। গত ২৭ জুলাই সেখান থেকে ফেরেন তিনি। এরপর গত ১৩ অগস্ট সংগঠনের নির্দেশে করিশুণ্ডা পশ্চিমপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে পঠন পাঠনের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যান আবদুল।
অভিযোগ, ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক কাশিনাথ দে হাফিজকে একদিন পরে স্কুলে আসার কথা বলেন। অভিযোগ, এরপরই তিনি স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের বিষয়টি জানান। পরিবারের অভিযোগ, ওই রাতেই একদল দুষ্কৃতী শেখ আবদুল হাফিজের বাড়িতে হামলা চালায়। লাঠি, রড ও শাবল দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় তাঁকে। আক্রমণের মুখে কোনওক্রমে বাড়িতে ঢুকে হাফিজ প্রাণে বাঁচলেও দুষ্কতীরা তাঁর বাবা শেখ মহম্মদ মাফিককে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে আহত শেখ মহম্মদ মাফিককে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ইন্দাস ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ১৫ অগস্ট তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই শনিবার রাতে চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যু হয়।
এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। পুলিশ ঘটনায় যুক্ত থাকার সন্দেহে প্রথমে ৮ জনকে আটক করে। এরপর রবিবার দুপুরে মৃতের স্ত্রী হাসিনা বেগম ইন্দাস থানায় হাজির হয়ে ৫ জনের নাম সহ মোট ১০ -১৫ জন হামলাকারীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপরই আটক থাকা ৮ জনকে গ্রেফতার করে বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে অষ্টম মাঝি স্থানীয় বিজেপি নেতা হিসাবে পরিচিত। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই ঘটনায় আর কে বা কারা যুক্ত রয়েছে তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছে ইন্দাস থানার পুলিশ। পরিবারের দাবি, হামলাকারীরা সকলেই বিজেপি কর্মী। হামলাকারীদের ফাঁসির দাবিতে সরব হয়েছেন মৃতের স্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে দিল্লির কোনও বিষয় আছে কি না জানতে হবে। FIR-এ বিজেপির নাম নেই। দুষ্কৃতী বলা হয়েছে। আর যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাঁরা সঙ্গে-সঙ্গে গ্রেফতার হয়েছে। বাড়ির সামনে হোমগার্ড মোতায়েন আছে। এখানে আইনের শাসন আছে। আমরা তদন্ত দেখব।” এখানে শান্তিপূর্ণ মিছিলের অবশ্যই অনুমতি আছে। গণতান্ত্রিক অধিকার সকলের আছে।
মৃতের স্ত্রী বলেন, “আমার মতো স্বামী হারা যেন কেউ না হয়। ওদের শাস্তিতে আরও পাঁচজন যেন শিউরে ওঠে।” মৃতের বৌদি বলেন, “বিজেপির লোক বাড়ি ঢুকে মেরে। আমার ভাইপো আন্দোলনে গিয়েছিল দিল্লিতে।” বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “জঙ্গলের রাজত্ব কায়েম হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। এটা হচ্ছেটা কী। থ্রেট কালচার, গুন্ডামি, ডিম মারা। বিজেপি-কে কী ছাড়পত্র দিয়ে দিয়েছে রাজ্য পুলিশ প্রশাসন? একটা আন্দোলনের কথা বলার জন্য বাড়িতে ঢুকে হামলা হবে। এর তীব্র নিন্দা করছি। রাগ হলেই খুন?”