
বাঁকুড়া: অবসরপ্রাপ্ত রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বিরাট সুখবরটা শুক্রবারই দিয়েছে সরকার। ২০০৮ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বকেয়া পেনশনের এরিয়ারের ৫০ শতাংশ টাকা চলতি মাসেই মিটিয়ে দেওয়া হবে। আর তাতেই রীতিমতো উচ্ছ্বসিত অবসরপ্রাপ্ত রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। আগের সরকারের আমলে ২০০৮ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতার দাবি বারবার জানিয়ে আসছিল অবসরপ্রাপ্ত রাজ্য সরকারি কর্মীদের একাধিক সংগঠন। সমানতালে চলছিল আন্দোলনও। কিন্তু বিগত সরকারের আমলে বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতা পাওয়া দূরে থাক উল্টে মিলেছিল যারপরনাই অপমান। রাজ্যে পালাবদলের পর পরই বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্তদের মিলেছে ২০ শতাংশ মহার্ঘ্য ভাতা। সেই খুশির মাঝেই আবার নতুন খুশির খবর ঘোষণা করেছে রাজ্যের সরকার।
রাজ্য সরকারের এই ঘোষণায় মুখের হাসি চওড়া হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের। তাঁদের দাবি অবসরের পর কর্মচারীদের এমনিতেই প্রাপ্তির অঙ্ক অর্ধেক বা দুই তৃতীয়াংশে নেমে আসে। অন্যদিকে বয়সজনিত কারণে শরীরে বিভিন্ন অসুখ বাসা বাঁধায় ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে চিকিৎসার খরচ। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি হওয়ায় বাড়তে থাকে সংসার খরচের চাপও। এই পরিস্থিতিতে প্রথমে ২০ শতাংশ মহার্ঘ্য ভাতা ঘোষণায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছিল। এর উপর সম্প্রতি রাজ্যের সরকার ২০০৮ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বকেয়া পেনশনের এরিয়ারের ৫০ শতাংশ দেওয়ার ঘোষণা করায় বাড়তি একটা মোটা অঙ্ক হাতে আসবে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের। যা তাঁদের অবসর জীবনে অন্যতম সম্বল হয়ে উঠবে বলেই তাঁদের মত।
অবসরপ্রাপ্ত রাজ্য সরকারি কর্মী মনোতোষ সরকার বলছেন, “আমরা খুবই খুশি। আমাদের তো এই টাকাটা দরকার। সংসারের খরচ বাড়ছে, জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, ওষুধের খরচ রয়েছে। এখন এই সরকার ৫০ শতাংশ টাকা যে দিচ্ছে সেটা খুবই ভালো। বাকি ৫০ শতাংশও দ্রুত দেবে বলেছে সরকার। আগের সরকার তো কিছুই করেনি। বকেয়া রেখে দিয়ে গিয়েছিল। আমরা দাবি করেছিলাম বলে আমাদের তো অনেক কথাও বলা হয়েছিল।” আর এক অবসরপ্রাপ্ত রাজ্য সরকারি কর্মী শান্তি দাস বলছেন, “আমরা তো বকেয়া ডিএ-র দাবিতে অনেক আন্দোলন করেছি। কিন্তু আগের সরকার আমাদের কোনও মর্যাদাই দেয়নি। বয়স বাড়তে তো ওষুধের খরচও অনেক বেড়ে গিয়েছে। এখন নতুন সরকার আমাদের জন্য যেটা করছে সেটা খুবই ভালো। আশা করি বাকি ৫০ শতাংশ আমরা পাবই।”