
বসিরহাট: রহস্যমোড়া জোড়া মৃত্যু। একই বাড়িতে জোড়া মৃত্যু, বারান্দায় ঝুলছে স্বামীর দেহ, আর ঘরের ভিতরে বিছানায় পড়ে রয়েছে স্ত্রীর নিথর দেহ। বসিরহাটে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
বসিরহাটে একই পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর রহস্যমৃত্যু। বাড়ির বারান্দায় গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছিল স্বামীর দেহ। অন্যদিকে ঘরের বিছানায় পড়ে রয়েছে স্ত্রীর নিথর দেহ। বাবা-মায়ের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে অসহায় হয়ে পড়ল তাঁদের ১৮ বছরের একমাত্র মেয়ে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
বসিরহাট পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সোনপুকুর এলাকার ঘটনা। মৃতদের নাম সুদেব গোস্বামী (৬০) ও সোমা গোস্বামী (৫৫)। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সকালে প্রথমে বাবার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পায় মেয়ে। তারপর ঘরের ভিতরে গিয়ে দেখতে পায়, বিছানায় নিথর অবস্থায় পড়ে রয়েছে মা-ও। এমন দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যুবতী। দ্রুত আত্মীয়দের খবর দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বসিরহাট থানার পুলিশও।
স্বামী ও স্ত্রীর একসঙ্গে কীভাবে মৃত্যু হল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। একই বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু, অথচ দু’জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থায়। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে যে দুজনেই আত্মঘাতী হয়েছেন। তবে পারিবারিক অশান্তি, আর্থিক সমস্যা নাকি অন্য বিবাদের জেরে এই জোড়া মৃত্যু, তা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
মৃত ব্যক্তির ভাই বলেন, “আমায় সকালে ভাইঝি ফোন করে। এসে দেখি এই অবস্থা। কোনও সমস্যা ছিল না। গতকালও কথা হয়েছে। যদি কোনও সমস্যা বা অশান্তির কথা জানতাম, তাহলে তো সমাধান করতাম”। অন্যদিকে, প্রতিবেশী মানিক মণ্ডলও বলেন, “ওরা খুবই ভালো মানুষ ছিল। কোনও ঝগড়াঝাটি-অশান্তি হয়নি। পাড়ার কারোর সঙ্গেও কোনওদিন ঝগড়া করেননি। হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত নিলেন, তা ভাবাচ্ছে।”
দু’জনের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। আপাতত রহস্যের জট খুলতে তদন্ত চালাচ্ছে বসিরহাট থানার পুলিশ।