
শনিবারও হাসিমুখে বাড়ির বাইরে বেরিয়েছিলেন। পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। আর রবিবার সব শেষ। সদা হাস্যমুখ মানুষটা এইভাবে নিজের জীবন কেড়ে নেবেন কেউ কল্পনা করেননি। একেবারে বাড়ির সামনের পার্টি অফিস থেকে উদ্ধার হল রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃতদেহ। পাশে পড়ে রইল আত্মহত্যার চিঠি। স্বামীর এই মৃত্যু এখনও মেনে নিতে পারছেন না তাঁর স্ত্রী। আচমকা কীভাবে এই ঘটনা…তবে কি ডিপ্রেশনে ভুগছিলেন? একাধিক প্রশ্ন।
রবিবার স্বামীর মৃত্যু নিয়ে তেমন কোনও কথা বলতে পারেননি আশিসের স্ত্রী। তবে, তুলেছেন শক্তিগড়ের প্রসঙ্গ। তাঁর আশঙ্কা হয়ত সেই দিন থেকেই আঘাত পেয়েছিলেন তিনি। আশিসবাবুর স্ত্রী বলেন, “কখন বেরিয়েছিল কিছুই জানি না। আমার পা ভাঙা .. হাঁটতেও পারি না। আমার মনে হয় ডিপ্রেশনে ভুগছিল। যে দিন শক্তিগড় গেল, সেই চোর চোর নানা রকম স্লোগান দিয়েছিল সেগুলি মনের মধ্যে নিশ্চয় লেগে গেছিল।”
কী ঘটেছিল শক্তিগড়ে?
চলতি বছরের একুশে জুলাইয়ের সভায় যোগ দিতে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। মাঝে শক্তিগড়ে দাঁড়িয়ে চা খেয়ে ওঠার সময় তাঁর সামনে এসে দাঁড়ান বর্ধমান উত্তর বিধানসভার ছ’নম্বর মণ্ডল সভাপতি সৌমিত্র ঘোষ। আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করেন কী করতে একুশে জুলাইয়ের সভায় যাচ্ছেন। এখানেই শেষ নয়, হাত তুলে আশিসকে মারার হুমকিও দেন সেই বিজেপি নেতা। বলেন, “কী করতে যাচ্ছে? চুরি করে দল শেষ করে দিয়ে যাচ্ছেন? বয়স না হলে চাপকে পিঠের ছাল তুলে দিতাম।” এই ঘটনার পর থেকেই তিনি মানসিক অস্বস্তিতে পড়েছিলেন প্রশ্ন তুলেছেন বিধায়ক কুণাল ঘোষও।
আজ যখন আশিসবাবুর মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল, সেই সময় তাঁর আত্মহত্যার চিঠি প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে তিনি লিখেছেন, “আমি কোনও দুর্নীতি করিনি।” রাজনীতিতে আসাই ভুল হয়েছে বলে অনুশোচনাও করেছেন তিনি।