
কলকাতা: শনিবার রাতেই সামনে এসেছে বঙ্গ বিজেপির ২০ আসনের প্রার্থী তালিকা। তাতেই যেমন একাধিক তাবড় তাবড় পদ্ম নেতাদের দেখা মিলেছে, তেমনই দেখা মিলেছে অনেক অল্প চেনা মুখেদেরও। বোলপুর থেকে লড়ছেন পদ্ম নেত্রী প্রিয়া সাহা। তাঁর নামে দেওয়াল লিখনও শুরু হয়ে গিয়েছে জোরকদমে। পোস্টারও পড়েছে এলাকায়। এরইমধ্যে এবার ফেসবুকে বিস্ফোরক পোস্ট অনুপম হাজরার। এক সময় এই বোলপুরের সাংসদ ছিলেন অনুপম। তিনিই সাফ লিখলেন, ‘জেতা সিটে দুর্বল প্রার্থী দেওয়ার জন্য শেষ মুহূর্তে কখন যে টিএমসি-র সঙ্গে কোটি টাকার ডিল হয়ে যাবে ধরতেও পারবেন না। অপনি তখন ব্যস্ত, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার্টির হয়ে দেওয়াল লিখতে!’ তাঁর এই পোস্ট নিয়ে এখন জোর শোরগোল জেলার রাজনৈতিক মহলে।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বোলপুর থেকে লড়েছিলেন বিজেপির রাম প্রসাদ দাস। তৃণমূলের হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন অসিত কুমার মাল। যদিও শেষ হাসি হেসছিলেন অসিতই। তবে ২০১৪ সালে এই বোলপুর থেকে জিতেছিলেন অনুপম। যদিও সেই সময় তিনি তৃণমূলে। সেই সময় বিজেপির কামিনি মোহন সরকার ছিলেন তৃতীয় স্থানে। সিপিএমের রাম চন্দ্র ডোম ছিলেন দ্বিতীয় স্থানে। যদিও ২০১৯ সালে পদ্ম শিবিরে যোগ দেন অনুপম। ওই বছর লোকসভা নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন যাদবপুর থেকে। তৃণমূলের মিমি চক্রবর্তীর কাছে হারতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু, সময় যত গড়িয়েছে ততই যেন দলের সঙ্গে সম্পর্কটা তিক্ত হয়েছে অনুপমের। বিভিন্ন সময়ে লাগাতার বিস্ফোরক পোস্টও করতে দেখা গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যা নিয়ে বিতর্কও দানা বেঁধেছে রাজনৈতিক মহলে। অস্বস্তিতে পড়েছেন বঙ্গ বিজেপির নেতারা।
এবারের লোকসভা নির্বাচনে অনুপমকে দল টিকিট দেয় কিনা তা নিয়ে জল্পনা চলছিলই। যদিও শেষ পর্যন্ত টিকিট পেলেন প্রিয়া সাহা। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে সাঁইথিয়া কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন এই প্রিয়া সাহা। হেরে গিয়েছিলেন তৃনমূলের প্রার্থী নীলাবতি সাহার কাছে। প্রিয়া সাহার প্রাপ্ত ভোট ছিল ৯৫,৩২৯। অন্যদিকে তৃণমূল প্রার্থী নীলাবতি সাহা পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ১০ হাজার ৫৭২। বিধানসভা নির্বাচনে প্রিয়া সাহা হেরেছিলেন ১৫,২৪৩ ভোটে।