
বোলপুর: তিনি বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা। তাঁকে ‘বীরভূমের বাঘ’ বলে অভিহিত করেছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। সেই অনুব্রত মণ্ডলের কণ্ঠে আক্ষেপের সুর। তা-ও আবার তৃণমূলের সভায়। দুয়ারে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে কী হল অনুব্রতর? কী নিয়ে আক্ষেপ করলেন কেষ্ট?
গতকাল বোলপুর শহরে তৃণমূলের একটি কর্মিসভায় উপস্থিত ছিলেন অনুব্রত। সেখানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, “দুটো কথা বলব। যা বলছেন, তাই করছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যা বলছেন, তিনি তাই করছেন। ভোটটা কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিচ্ছেন না? খারাপ লাগে না? যা বলবেন, তাই করব। তারপরও ভোটের সময় যদি ভোট না দেন, দুঃখ লাগে না?”
এখানেই না থেমে তিনি বলেন, “আজকে এসআইআর চলছে। কোন দল আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছে? কোন মানুষ আপনাদের কাছে আছে? তৃণমূল সরকার ছাড়া কেউ নেই। এরপর এনআরসি হবে। তখনও আমরা থাকব। তাহলে আমাদের কী অপরাধ? আমরা কী এমন অপরাধ করেছি? ৯৬টা প্রকল্প মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চালু করেছেন। কন্যাশ্রী, যুবশ্রী, বেকার ভাতা, সবই তো করেছেন। তারপরও ভোট এলে মুখ ফিরিয়ে নেন। কোনও অন্যায় করেছি? আমরা কি কোনও ভুল করেছি? যদি আপনারা বলে দেন, শুধরে নেব। আপনাদের বলে যাচ্ছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না থাকলে এই পশ্চিমবঙ্গে অন্ধকার নেমে আসবে। ভয়ঙ্কর অন্ধকার। আমি এমএলএ নই, মন্ত্রী নই। আপনাদের মতো একজন কর্মী। আপনাদের কাছে জোড়হাত করে বলছি, এই ভোটে আপনারা আমাদের ভোট দেবেন। যা বলবেন, তাই করব।”
কেষ্টর এই আক্ষেপের কারণ বোলপুর শহরে তৃণমূলের ভোটপ্রাপ্তি। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে বোলপুরে জয়ী হন তৃণমূলের চন্দ্রনাথ সিনহা। তিনি পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ১৬ হাজারের বেশি ভোট। আর দ্বিতীয় স্থানে থাকা বিজেপির অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায় পেয়েছিলেন ৯৪ হাজারের বেশি ভোট। কিন্তু, বোলপুর পৌরসভায় এগিয়ে ছিল বিজেপি। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনেও বোলপুর আসনে জিতেছে তৃণমূল। কিন্তু, লোকসভা নির্বাচনেও বোলপুর শহরে পিছিয়ে থেকে ঘাসফুল শিবির। অনুব্রতর আগে এই নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহাও।
কেষ্টর এই আক্ষেপ নিয়ে কটাক্ষ করে বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “ভোটের সময় আপনি চড়াম চড়াম শব্দ শুনিয়েছিলেন ভোটারদের। তাঁদের বাড়ির সামনে উন্নয়নকে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন। আপনি ভোটারদের নকুলদানা খাইয়ে ভোট দিতে দেননি। তাই, যখনই তাঁরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পান, আপনাকে আপনার বুথেই হারান। এবার শুধু আপনার নিজের বুথে নয়, বীরভূমেও হারবেন। বীরভূমের ১৯০০ বুথে তৃণমূল হারবে। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, তাঁরা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছেন। তাই, কাকুতি-মিনতি করছেন।” তৃণমূলকে কটাক্ষ করছে সিপিএম-ও। তাদের বক্তব্য, মানুষের তৃণমূলের ভাঁওতা ধরে ফেলেছে। তাই এখন তাদের নেতারা কাকুতি-মিনতি করছেন।