
বীরভূম: তৃণমূল আমলে বীরভূমে পাথর সম্রাট হয়ে উঠেছিলেন তিনি। পালাবদলের পর থেকেই বেপাত্তা মহম্মদ নাজিবুদ্দিন মণ্ডল ওরফে টুলু মণ্ডল। তাঁর ২২০ কোটি টাকার সম্পত্তির হদিশ পাওয়া গিয়েছে। সেটা কি হিমশৈলের চূড়া মাত্র? সোমবার আদালতে পুলিশ যে তথ্য পেশ করেছে, তা চোখ কপালে ওঠার মতো। পুলিশ জানিয়েছে, পাথর খাদানে DCR (ডুপ্লিকেট কার্বন রিসিট) জালিয়াতি চলার জেরে গত পাঁচ বছরে আনুমানিক আড়াই হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারিয়েছে রাজ্য। বছরে আনুমানিক ৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব লোকসান হয়েছে রাজ্যের।
পুলিশ হেফাজত শেষে এদিন টুলু মণ্ডলের ম্যানেজার সীতেশ প্রামাণিক ও আত্মীয় নইমুদ্দিন মণ্ডলকে সিউড়ি আদালতে তোলা হয়। টাকা নয়ছয়, জালিয়াতি, চিটিংবাজি, প্রমাণ লোপাট- এই চারটি ধারা যোগ করার জন্য আদালতে আবেদন করেন সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়। নইমুদ্দিনকে ফের নিজেদের হেফাজতে চেয়ে আবেদন করে পুলিশ। সেই আবেদন মেনে নইমুদ্দিনকে ৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। সীতেশকে ২১ অগস্ট পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। সরকারি আইনজীবীর আবেদন মেনে ৪টি নতুন ধারা যুক্ত হয়েছে। আবেদনের ভিত্তিতে টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধেও হুলিয়া জারির নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া নিয়ে ভূমি রাজস্ব দফতরের থেকে পাওয়া তথ্যর ভিত্তিতে আদালতে জোরালো সওয়াল করেন সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়। টুলু মণ্ডলের কোম্পানির উদ্ধার হওয়া DCR নথি জাল বলে নিশ্চিত করেছে ভূমি রাজস্ব দফতর। সরকারি আইনজীবী বলেন, জাল DCR ছাপানো হত। আবার পুলিশের অনুমান, DCR দুর্নীতির অঙ্ক বাড়তে পারে।
কীভাবে চলত দুর্নীতি?
সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিতে টুলু মণ্ডল নানা ফন্দি এঁটেছিলেন। শুধু ডিসিআর ছাপানো নয়, ছিল আরও পন্থা। গোটা বীরভূমে তাঁর নিজস্ব লরি বা ডাম্পার চলত ৮০০ থেকে ১০০০টি। আর ওই ডাম্পারগুলির মধ্যেই লুকিয়ে ছিল রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার ‘গুপ্ত মন্ত্র’। তাঁর সমস্ত লরি, ডাম্পারে MSP অর্থাৎ মণ্ডল স্টোন প্রোডাক্ট প্রাইভেট লিমিটেড লেখা থাকত। আর গাড়িতে থাকত বিশেষ মোবাইল নম্বর। যার শেষের চারটি নম্বর হল ৭৭১৯। এই দুটি লেখা থাকলে পুলিশ বা প্রশাসন ওই লরি, ডাম্পারকে কোথাও আটকাত না। এমনকি, খাদান থেকে পাথর বা বালি নিয়ে আসার সময় যেখানে ডিসিআর দেখাতে হত, সেখানেও ডিসিআর লাগত না। ফলে সরকারের ঘরে রাজস্ব জমা পড়ত না। জানা গিয়েছে, সরকার পরিবর্তনের পর বেশিরভাগ লরি, ডাম্পারগুলি থেকে এমএসপি লেখা মুছে ফেলা হয়। মোবাইল নম্বর বদলে ফেলা হয়।
কী বলছে বিজেপি?
আড়াই হাজার কোটি টাকা রাজস্ব জালিয়াতি নিয়ে তৃণমূলকে নিশানা করে বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ বলেন, “অনেক শিল্পপতির ঘরে আড়াই হাজার কোটি টাকা নেই। এরা সাম্রাজ্য বানিয়ে ফেলেছিল। একটা টুলু মণ্ডল আড়াই হাজার কোটি টাকা। বীরভূমে এরকম ১০টা টুলু মণ্ডল, অনুব্রত মণ্ডল রয়েছে। এদের ভালো করে ঝাড়াই করলে রাজ্যের ৮ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ আগামী ৬ মাসের মধ্যে শোধ হয়ে যাবে।”