
বীরভূম: ‘আমি কোনও দুর্নীতি করিনি…’, আত্মহত্যার চিঠির শুরুতেই লেখা এমন লাইন। আর সেটা লিখেছেন রাজ্যের প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। এও লিখেছেন, ‘সারা জীবনে এক পয়সাও কারও থেকে নিইনি।…’ রবিবার রামপুরহাটের পার্টি অফিস থেকে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেহ উদ্ধার হয়। আর তাঁর মৃত্যুতে উঠে আসছে একের পর এক প্রশ্ন। যে দুর্নীতির কথা তিনি আত্মহত্যার চিঠির ছত্রে ছত্রে লিখে গিয়েছেন, কী ছিল সেই দুর্নীতি। বারেবারে কোন দুর্নীতির কথা বোঝাতে চেয়েছেন আশিস?
রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী নিজের আত্মহত্যার চিঠিতে TRDA দুর্নীতির কথা লিখেছেন। কী এই TRDA ? এটি হল ‘তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদ’। এই কমিটি মূলত তারাপীঠ ও রামপুরহাট এলাকার সার্বিক উন্নয়ন,পরিকল্পনা এবং পর্যটনের বিষয় দেখে। কমিটির চেয়ারপার্সন ছিলেন তিনি। অভিযোগ, ছাব্বিশের ভোটের আগে ও পরে অভিযোগ উঠেছিল টাকা তছরুপের। সেখানেই নাম জড়ায় আশিসের।
প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে এই অপমান তিনি মেনে নিতে পারেননি। আর তারপরই এমন ঘটনা। নিজের আত্মহত্যার চিঠিতে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় উল্লেখ করেছেন, “টিআরডিএ-তে জেনারেল মিটিং ছাড়া আর কোনও দায়িত্ব ছিল না। আমি টেন্ডার কমিটিতে ছিলাম না। আমার চেক পাওয়ার ছিল না। আমি প্ল্যান পাস বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট ইস্যুর ব্যাপারেও ছিলাম না। আমার সঙ্গে এ বিষয়ে কোনও দিন কেউ আলোচনা করেননি।” মৃত্যুর আগে তিনি মনে করেছেন, রাজনীতিতে আসাই ভুল হয়েছে তাঁর।
রবিবার রামপুরহাটের পার্টি অফিস থেকে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। প্রাক্তন বিধায়কের মৃত্যুর কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।