
কুমারগঞ্জ: পরোটা কিনে বাড়ি ফিরছিল। অভিযোগ, রাস্তা থেকে ১৬ বছরের ওই কিশোরীকে জোর করে দোকানে টেনে নিয়ে যান গ্রামেরই এক হাতুড়ে ডাক্তার। আর দোকানে নিয়ে গিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল ওই হাতুড়ে চিকিৎসক তথা ওষুধ বিক্রেতার বিরুদ্ধে। রবিবার দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ থানা এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই কিশোরী সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছে। এদিন সে এলাকার একটি মিষ্টির দোকান থেকে পরোটা কিনে ফিরছিল। অভিযোগ, সেই সময় অভিযুক্ত তাকে জোরপূর্বক নিজের ওষুধের দোকানে টেনে নিয়ে গিয়ে শাটার নামিয়ে ধর্ষণ করে। মেয়েটির চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরিবারের লোকজনকে খবর দেন।
ঘটনার খবর ছড়াতেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে নির্যাতিতার বাবা কুমারগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে। অভিযুক্ত ওষুধ বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে। এবং নির্যাতিতা নাবালিকাকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদে এদিন বিকেলে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দলের সমর্থকেরা থানার সামনে বিক্ষোভ দেখালে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিপুল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং পুলিশের আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ।
নির্যাতিতার বাবা বলেন, “আমার মেয়ে পরোটা কিনে ফেরার সময় ধর্ষণ করেছে। আমি ওই ডাক্তারের ফাঁসি চাই।” অন্যদিকে, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের স্থানীয় নেতৃত্বের অভিযোগ, পুলিশ প্রথমে অভিযুক্তের বাড়ি পাহারা দিচ্ছিল। তাদের সঙ্গেও দেখা করতে চাননি আইসি। তারা অভিযুক্ত হাতুড়ে চিকিৎসকের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে, ঘটনার যথাযথ তদন্ত হবে।