
শিলিগুড়ি: বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পরই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে তৃণমূল। দলের প্রতীক নিয়ে দুই শিবিরের টানাপোড়েন চলছে। এই আবহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্য। তাঁর কথায়, তৃণমূলের ভ্যানিশ হওয়ারই কথা ছিল। আবার রাজ্যের দুই আসনে বাম-কংগ্রেস জোট না হওয়ায় হাত শিবিরকেও কটাক্ষ করলেন। সিপিএম-ই যে বিজেপির প্রধান বিরোধী, তাও দাবি করলেন।
কী বললেন অশোক ভট্টাচার্য?
তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব নিয়ে এদিন টিভি৯ বাংলাকে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে অশোক ভট্টাচার্য বলেন, “তৃণমূল ভ্যানিশ হওয়ারই কথা ছিল। তৃণমূল যদি সরকার গঠনের মতো বিধায়ক পেত এবারের নির্বাচনে, তাও তারা বিজেপির দিকে চলে যেত। আগেই বিজেপির সঙ্গে তাদের বোঝাপোড়া ছিলই। ফলে তৃণমূলের ভ্যানিশ হওয়ার কথা ছিল। না হলে ৮০টা আসন পেয়ে সত্যিকারের বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে পারত, তৃণমূলের যদি সেই সদিচ্ছা থাকত। বিরোধী দল হিসেবে ৮০টা আসন থাকা বিরাট শক্তি।”
জোট নিয়ে ফের কংগ্রেসকে বার্তা-
বাংলায় গত কয়েকটি নির্বাচনে বামেদের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে ভোট ময়দানে নেমেছিল কংগ্রেস। কিন্তু, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস একাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। আবার নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরেও কংগ্রেস একা লড়ছে। এই নিয়ে অশোক ভট্টাচার্য বলেন, “কংগ্রেসের সঙ্গে উপনির্বাচনে জোট হলে খুব ভালো হত। কংগ্রেস নেতৃত্ব যদি বাস্তবতা চিন্তা করতেন এবং তাঁরা যদি মনে করতেন, এই মুহূর্তে বিজেপি সবচেয়ে বড় শত্রু। কংগ্রেস ও বামপন্থীদের একজোট হওয়াটা প্রয়োজন ছিল। কংগ্রেস জোটটা চাইছে না।” এরপরই তাঁর কটাক্ষ, “পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের তেমন শক্তি তা তো নয়।”
তারপরও অবশ্য পৌরভোটে শিলিগুড়িতে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট চাইছেন তিনি। শিলিগুড়ি পৌরনিগমের একসময় মেয়র ছিলেন অশোকবাবু। বললেন, “অন্য জায়গায় কী হবে জানি না, শিলিগুড়িতে কংগ্রেসের সঙ্গে বোঝাপোড়া করতে আন্তরিকভাবে চাই। শিলিগুড়িতে ব্যতিক্রম হতে পারে। অন্য জায়গায় বলতে পারব না, শিলিগুড়িতে বামপন্থী ও কংগ্রেস একজোট হলে খুব ভালো হবে।”
বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই নিয়ে বার্তা-
বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই নিয়ে অশোক বলেন, “আমরা মনে করি, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করাটাই এখন প্রধান কাজ। এই লড়াইটা যেমন বিজেপির বিরুদ্ধে নির্বাচনী লড়াই হবে। তেমনই মতাদর্শ ও সংস্কৃতির লড়াই হবে। এই লড়াইটা একমাত্র লড়তে পারে বামপন্থীরাই।”
পুজোমণ্ডপে সিপিএমের স্টলে বই রাখা নিয়ে তিনি বলেন, “সিপিএম কোন বই রাখবে, কোন বই বিক্রি করবে, এটা তো সিপিএমের ব্যাপার। সিপিএম দুর্গাপুজোর বিরোধী নয়। কোনও ধর্মের বিরোধী নয়। আমাদের সংবিধানে লেখা রয়েছে, কেউ ধর্মে বিশ্বাস রাখতে পারেন কেউ নাও রাখতে পারেন। সেটা তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার।” একইসঙ্গে তাঁর দাবি, “উত্তরবঙ্গে কোনও উন্নয়নই হয়নি।”