
শিলিগুড়ি: টাকা ফেরাতে বলবেন না, বরং জেলের ভাত খাওয়ান! শিক্ষকদের টাকা ফেরানোর প্রশ্নে বললেন চাকরিহারা এক ‘দাগি’ গ্রুপ ডি। অযোগ্যদের টাকা ফেরতের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। নতুন সরকার গঠনের পরই সেই বিষয়টা ত্বরান্বিত করেছে। আর এই নির্দেশের পর এখন শিরে সংক্রান্তি দেখছেন অযোগ্যরা। অঙ্ক বলছে, এক-এক জনের ঘাড়ে ঝুলছে প্রায় ২৫ লক্ষের দেনা!
পর্যায়ক্রমে টাকা ফেরৎ দিতে হতে পারে গ্রুপ ডির প্রায় সাড়ে তিনশো জনের। আর দাগি শিক্ষকদের সংখ্যা ১৮০৬ জন। ২০১৬-র প্যানেলে ২০১৮ তে শিলিগুড়ির নেতাজি হাই স্কুলে গ্রুপ ডি তে যোগ দিয়েছিলেন দিব্যেন্দু চাকি। তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে চাকরি হারান দিব্যেন্দু। ২০২৫ এর এপ্রিল থেকে আর স্কুলমুখো হননি দিব্যেন্দু।
দিব্যেন্দুর এখনও দাবি, “দাগি তালিকায় নাম থাকলেও আমি সাদা খাতা জমা দেইনি। আমার ওএমআর আমার কাছেই আছে। কেন আমি টেইন্টেড তা জানি না।”
তবে টাকা ফেরতের প্রশ্নে এখন মাথায় হাত পড়েছে দিব্যেন্দুর৷ তাঁর দাবি, “আমার নাম যখন আছে আমাকে জেলে নিয়ে যান৷ জেলের ভাত খাব। কেউ পাশে নেই। কিন্তু টাকা ফেরাতে বলবেন না। কীভাবে ফেরাব টাকা। সরকার দুর্নীতি করেছিল।” তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, “শুধু এক মন্ত্রী জেল খাটলেন, এই দুর্নীতিতে যুক্ত বাকি কেউ শাস্তি পেল না।”
এদিন দিব্যেন্দু বলেন, “আমার পাশে আর কেউ নেই। অনেক কষ্টে একটা ছোট চাকরী পেয়েছি বেসরকারী সংস্থায়। তা করেই সংসার চালাচ্ছি। কীভাবে কী করব বুঝে উঠছি না৷”
ইতিমধ্যেই জেলায় জেলায় জেলাশাসকদের কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে শিক্ষা দফতরের কাছে। মঙ্গলবারই প্রত্যেক জেলাশাসকদের কাছে পৌঁছেছে শিক্ষা দফতরের চিঠি। এর আগে বিজ্ঞপ্তি জারি করলেও, টাকা ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেনি পূর্বতন সরকার। তবে,দ্রুত টাকা ফেরত নিয়ে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ জেলাশাসকদের।