
নয়া দিল্লি: আগামী বছরই দেশে ছুটবে বুলেট ট্রেন। মুম্বই থেকে আহমেদাবাদের রুটের কাজ প্রায় শেষ। অন্যদিকে, দিল্লি থেকে শিলিগুড়িতেও চালু হবে বুলেট ট্রেন। সেক্ষেত্রে আর ২৪ ঘণ্টা নয়। মাত্র ৬ ঘণ্টাতেই পৌঁছে যাবেন শিলিগুড়ি। এই নিয়ে বাজেটে আগেই ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। দিল্লি-শিলিগুড়ি রেল করিডর তৈরি হলে বলা যেতে পারে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রাজধানীর রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা আমূল বদলাতে চলেছে।বহু যাত্রী উপকৃত হবেন। ইতিমধ্যেই প্রকল্পের বিস্তারিত রিপোর্ট রেল মন্ত্রকের কাছে জমা দিয়েছে ন্যাশনাল হাই স্পিড রেল কর্পোরেশন লিমিটেড। রুট কী হবে, তাও জানানো হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, দিল্লি থেকে বারাণসী ও পটনা হয়ে শিলিগুড়ি পর্যন্ত তৈরি হবে হাইস্পিড রেল করিডর। প্রায় ৮৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ হতে পারে এই রুট। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে যে হাইস্পিড রেল করিডরগুলির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তারই অংশ এই প্রকল্প।
বর্তমানে দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত ট্রেনে পৌঁছতে সাধারণত প্রায় ২০ থেকে ২৪ ঘণ্টা সময় লাগে। নতুন করিডর চালু হলে সময় লাগবে মাত্র ৬ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাইস্পিড রেলে দিল্লি থেকে পটনায় পৌঁছতে সময় লাগতে পারে প্রায় ৪ ঘণ্টা ৪১ মিনিট। এরপর পটনা হয়ে মাত্র দুই ঘণ্টায় ট্রেন পৌঁছবে শিলিগুড়িতে। এই করিডরে বারাণসীর ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। দিল্লি-বারাণসী এবং বারাণসী-শিলিগুড়ি হাইস্পিড রেল সংযোগের গুরুত্বপূর্ণ জংশন হয়ে উঠতে পারে উত্তরপ্রদেশের এই শহর।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু দিল্লি ও শিলিগুড়ির মধ্যে যাতায়াতের সময়ই কমবে না, উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরের মধ্যে রেল যোগাযোগও আরও দ্রুত হতে পারে।
বিশেষ করে শিলিগুড়ির গুরুত্ব এক্ষেত্রে অনেকটাই বেশি। উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবেও পরিচিত শিলিগুড়ি। ফলে দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত হাইস্পিড রেল যোগাযোগ তৈরি হলে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হতে পারে।
তবে এখনই এই রুটে হাইস্পিড ট্রেন চালুর দিনক্ষণ নির্দিষ্ট হয়নি। প্রকল্পটি বর্তমানে পরিকল্পনার স্তরে রয়েছে। NHSRCL বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট রেল মন্ত্রকের কাছে জমা দিয়েছে। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পর কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই প্রকল্পের চূড়ান্ত রুট, স্টেশন এবং নির্মাণকাজ সংক্রান্ত পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।
সবুজ সংকেত মিললে দিল্লি থেকে শিলিগুড়ির দীর্ঘ রেলযাত্রার ছবিটাই বদলে যেতে পারে। যে পথ পেরোতে এখন প্রায় গোটা একটা দিন লেগে যায়, হাইস্পিড রেলে সেই দূরত্বই পেরোনো সম্ভব হতে পারে সাত ঘণ্টারও কম সময়ে।