‘আমরা কী দোষ করলাম?’, জাতীয় সড়কে বসে ডায়ালিসিস করাতে আসা রোগীর পরিবাররা, কারণ কী?

Gangarampur Super Specialty Hospital: নির্দিষ্ট সময়ে হাসপাতালে পৌঁছানোর পরই তাঁদের জানানো হয়, ডায়ালিসিস পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। কারণ জানতে চাইলেও সঠিক কারণ জানতে পারেননি তারা। দিনের পর দিন এই সমস্যার মুখে পড়ে সমাধানের দাবি নিয়ে রোগীরা হাসপাতাল সুপারের দরজায় কড়া নাড়েন।

আমরা কী দোষ করলাম?, জাতীয় সড়কে বসে ডায়ালিসিস করাতে আসা রোগীর পরিবাররা, কারণ কী?
বিক্ষোভ রোগী পরিবারের।Image Credit source: TV9 বাংলা

| Edited By: ঈপ্সা চ্যাটার্জী

Sep 16, 2026 | 7:23 PM

গঙ্গারামপুর: অজানা কারণে বন্ধ ডায়ালিসিস পরিষেবা। ডায়ালিসিস করতে এসে রোগী ও তাদের পরিজনকে ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। প্রতিবাদে বুধবার বিকেলে গঙ্গারামপুর মহকুমা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সামনে ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ রোগীর পরিবারের।

বন্ধ ডায়ালিসিস-

আচমকা ডায়ালিসিস পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার জেরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল গঙ্গারামপুর মহকুমা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে স্বাভাবিক হয় পরিস্থিতি। এদিকে জেলা স্বাস্থ্য দফতরের উদ্যোগে হাসপাতালে ফের ডায়ালিসিস শুরু হয়।

চরম ভোগান্তি রোগীদের-

​স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গঙ্গারামপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে কমপক্ষে ৪০-৪৫ জন রোগী নিয়মিত ডায়ালিসিস করান। প্রতিদিন গড়ে ৮-১০ জন মুমূর্ষু কিডনি রোগী ডায়ালিসিসের জন্য দূরদূরান্ত থেকে হাসপাতালে আসেন।

অভিযোগ, নির্দিষ্ট সময়ে হাসপাতালে পৌঁছানোর পরই তাঁদের জানানো হয়, ডায়ালিসিস পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। কারণ জানতে চাইলেও সঠিক কারণ জানতে পারেননি তারা। দিনের পর দিন এই সমস্যার মুখে পড়ে সমাধানের দাবি নিয়ে রোগীরা হাসপাতাল সুপারের দরজায় কড়া নাড়েন।

সেই সময় হাসপাতালে সুপারও উপস্থিত ছিলেন না। এতে ক্ষোভের আগুন আরও জ্বলে ওঠে। বাধ্য হয়েই রোগী ও তাঁদের ক্ষুব্ধ পরিজনেরা হাসপাতাল সংলগ্ন ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে রাস্তার উপর বসে পড়েন এবং যান চলাচল অবরুদ্ধ  হয়ে যায়।​ ঠিক কী কারণে সরকারি হাসপাতালে গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনও স্পষ্ট বক্তব্য মেলেনি।

কেন বন্ধ ডায়ালিসিস?

জানা গিয়েছে, গত আট মাসে প্রায় ৩০-৩৫ লক্ষ টাকা বকেয়া থাকার কারণে হাসপাতালের পিপিপি মডেলে চালু ডায়ালিসিস বিভাগ বন্ধ করে দেয় বেসরকারি সংস্থা। কী সমস্যা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা।

অন্যদিকে, জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ দাস বলেন, “কিছু সমস্যার জন্য অল্প সময়ের জন্য ডায়ালিসিস বন্ধ ছিল। পরে তা স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে। কী সমস্যা-তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

“আমরা অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় রয়েছি। আমাদের প্রতি একদিন বা দুই দিন অন্তর ডায়ালিসিস করতে হয়। এখন ডায়ালিসিস না করাতে পেরে অবস্থা সঙ্গীন। অনেকে মারাও গিয়েছে। কেন হচ্ছে না, সে বিষয়ে আমরা জানতাম না। এসে টিকিট করেছি, তারপর শুনি যে ডায়ালিসিস হবে না। শুনেছি যে কোম্পানির সঙ্গে সরকারের ঝামেলার কারণে ডায়ালিসিস বন্ধ। আমরা কী দোষ করলাম? সরকারের সঙ্গে লেনদেনের বিষয় তারা বুঝুক, আমরা কেন ভুক্তভোগী হব? আমরা চাইছি আজ ডায়ালিসিস শুরু হোক।”

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us