
কলকাতা: দুর্গাপুজোর (Durga Puja) আর বেশিদিন বাকি নেই। প্যান্ডেলের কাজ থেকে শুরু করে প্রতিমা তৈরি… জোরকদমে প্রস্তুতি চলছে সর্বত্র। এদিকে, পুজোর সময় ভিড়ের কথা মাথায় রেখে ও যাত্রীদের সুবিধার্থে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে পূর্ব রেল। শিয়ালদহ ডিভিশনে (Sealdah Division) লক্ষ লক্ষ যাত্রীর নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ থেকে পরিকাঠামো উন্নয়ন একাধিক পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
শনিবার রাজীব সাক্সেনা, ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (DRM), শিয়ালদহ-এর নেতৃত্বে ভিডিও কনফারেন্সিং (VC)-এর মাধ্যমে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতি ও পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই পুজোর প্রস্তুতি নিয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত দুর্গাপুজোর সময় শিয়ালদহ স্টেশনে একদিনে প্রায় ২১ লক্ষ যাত্রীর ফুটফল হয়েছিল। এবার সেই অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে আগাম পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
শিয়ালদহ ও কলকাতা স্টেশনের সমস্ত টিকিট কাউন্টার ২৪×৭ চালু থাকবে। ব্যস্ত সময়ে অতিরিক্ত বুকিং ক্লার্ক মোতায়েন করা হবে।
২৪ ঘণ্টা ATVM পরিষেবা এবং ফ্যাসিলিটেটর রাখা হবে। ভিড়ের মধ্যেই HHT ব্যবহার করে টিকিট দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।
প্ল্যাটফর্ম, প্রবেশ ও বাহির পথে যাত্রীদের লাইন ও চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে RPF। CCTV-র মাধ্যমে ভিড়ের উপর নজর রাখা হবে। এছাড়া, প্রবেশ-বাহির পথ আলাদা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সদ্য চালু হওয়া সেন্ট্রাল গেট মেল/এক্সপ্রেস যাত্রীদের জন্য পৃথক প্রবেশ ও বাহির পথ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্ল্যাটফর্ম ৪ ও ৫-এর দিকের বুকিং কাউন্টার সরিয়ে আরও বড় যাত্রী এলাকা তৈরি করা হচ্ছে।
যাত্রী পরিষেবা ও পরিচ্ছন্নতা বাড়াতে শিয়ালদহ, বালিগঞ্জ ও দমদমে আধুনিক শৌচাগার কমপ্লেক্স তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সাবওয়েতে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ করা হচ্ছে, যাতে পুজোর সময় যাত্রীদের চলাচল নিরাপদ হয়।
যাত্রীদের পথনির্দেশ দিতে পর্যাপ্ত সাইনেজ ও ট্রেন ইনফরমেশন বোর্ড রাখা হবে।
জরুরি এক্সিট, চিকিৎসা পরিষেবা ও দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুজোর ভিড়ের সময় নির্দিষ্ট দায়িত্ব, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং দুর্যোগ মোকাবিলা নিয়ে কর্মী ও সুপারভাইজারদের ব্রিফিং দেওয়া হচ্ছে।
শিয়ালদহের DRM রাজীব সাক্সেনার নির্দেশ, পুজোর ভিড় শুরু হওয়ার আগেই সমস্ত পরিকাঠামোগত কাজ শেষ করার উপর জোর দিয়েছেন। মূল লক্ষ্য হল ভিড় নিয়ন্ত্রণ, উন্নত টিকিটিং ব্যবস্থা, পরিকাঠামো উন্নয়ন, যাত্রী সুবিধা এবং জরুরি পরিষেবার সমন্বয়ের মাধ্যমে পুজোর সময় দর্শনার্থীর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা।