
আরামবাগ: রাতের অন্ধকারে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল দুষ্কৃতীরা। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের জায়গা নিজের নামে করে নেওয়ার অভিযোগ কেন্দ্রের দিদিমনির দিকে। দখলমুক্ত করতেই এই ভাঙচুরের ঘটনা বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গোঘাটের কুমুড়শার ঘটনায় হতবাক গ্রামবাসীরা। তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েত প্রধান রবিন দে ও আইসিডিএস কেন্দ্রের দিদিমনি মান্তু রায় এর দিকে অভিযোগ গ্রামবাসীদের।
গোঘাটের কুমুড়শা পূর্ব রায় পাড়াতে ১৯৮০ সাল থেকে একটি আইসিডিএস সেন্টার ছিল। প্রথমে মাটির, পরে কংক্রিটের আইসিডিএস সেন্টার তৈরি হয়। তৎকালীন গ্রামের দু’জন সহৃদয় ব্যক্তি আইসিডিএস কেন্দ্র নির্মাণের জন্য রাজ্য সরকারকে ১০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারে ‘চার’ শতক জায়গা দান করেন। তখন থেকেই আইসিডিএস সেন্টার চলে আসছে। অভিযোগ বর্তমান আইসিডিএস কর্মী মান্তু রায় ও কুমুড়শা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান যোগসাজসে রবিন দে ICDS কেন্দ্রের ভবন নির্মাণ হবে গ্রামবাসীদের ভুল বুঝিয়ে পঞ্চায়েত থেকে রেজুলেশন করে এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় দুয়ারে নিয়ে যায়।
গ্রামবাসীরা উদ্যোগ নিয়ে মাটির আইসিডিএস কেন্দ্রটি কংক্রিটের তৈরি করে পুনরায়। সরকারিভাবে জলের জন্য সাবমারসিবল ও ট্যাংক বসানো হয়। শৌচালয়ের ব্যবস্থাও ছিল। অভিযোগ মঙ্গলবার রাত্রে সবকিছুই ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ সত্যরঞ্জন রায় ও রবীন্দ্রনাথ চৌধুরী স্ট্যাম্প পেপারে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রকে দান করেছিলেন। তাদের নামে বর্তমানে রেকর্ড থেকে যাওয়ায় ICDS কেন্দ্রের দিদিমণি মান্ত মন্ডল তৎকালীন জায়গাদানকারী বংশধরদের ভুল বুঝিয়ে তাদের কাছ থেকে লিখিয়ে নিয়েছেন। এবং তাঁর নিজের নামে রেকর্ড করিয়ে নিয়েছেন।
বিএলআর অফিসে মিউটেশনের জন্য আবেদন করলে বিএলআরও অফিস অনুসন্ধান করে দেখে ওই জায়গার ওপর সরকারি ICDS কেন্দ্র আছে। তাই বিএলআর অফিস মিউটেশন করেনি। তাই লোক লাগিয়ে মঙ্গলবার রাতে এই ICDS কেন্দ্রটি ভেঙে দিয়েছে।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ পঞ্চায়েত প্রধান তার ক্ষমতা বলে এই ICDS কেন্দ্রটি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুয়ারে নিয়ে গিয়েছেন। এই ICDS কেন্দ্রটির কয়েক এক বছরের মত পূর্ব কুমারশা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুয়ারে চলছে। এই প্রাথমিক বিদ্যালয় যাওয়ার কোন রাস্তা নেই কাদা মাড়িয়েই যেতে হয়। খুব্ধ এলাকার মানুষজন। তারা চায় আগের জায়গাতেই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি হোক। এবং যারা ICDS কেন্দ্রটি ভাঙচুর করল তাদের শাস্তি হোক।
যদিও দীর্ঘদিন ধরে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে রান্না করে আসছেন বিনা মন্ডল। তিনিও জানিয়েছেন আগে ভেঙে দেওয়া অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রাই রান্নার কাজ সামলেছেন।