
হুগলি: একসময় বলাগড় থেকে সপ্তগ্রাম যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম ছিল নৌকা। সপ্তগ্রামে ছিল বন্দর নগরী। ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য নৌকার ব্যবহার ছিল । ব্যবসায়িক কাজ ছাড়াও যাতায়াত করা যেত ডিঙি নৌকার মাধ্যমে। এমনকী জলপথে ডাকাতরা ডাকাতি করতে যাওয়ার জন্য নৌকা কিনত। সেই নৌকাই এবার পেল বিশেষ স্বীকৃতি।
ডিঙি নৌকার ধারক বলা হয় হুগলির বলাগড়কে। প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ বছরের পুরনো এই শিল্প। শুরুর দিকে ডিঙি নৌকা তৈরি হত হুগলির বলাগড়ে। তাতে কোনও পেরেক ব্যবহার করা হত না। তার বদলে ‘জোড় কাঠ’ (কাঠের সঙ্গে অন্য কাঠ জুড়ে) পদ্ধতি ব্যবহার করা হত। কিন্তু এখন জুলুস পেরেক ব্যবহার করা হয়। নৌ শিল্পকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে রয়েছে এখনও বেশ কিছু শিল্পীর পরিবার। ডিঙি নৌকা তৈরির জন্য খ্যাতি রয়েছে এই বলাগড়ের।
বলাগড়ের আঞ্চলিক গবেষক পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, বলাগড়ের নৌ শিল্পের জি আই ট্যাগ পাওয়া প্রায় চার বছরের একটা লড়াই। সারা ভারতে সমস্ত জায়গায় নৌকা বানানো হয়। সুন্দরবন, কাকদ্বীপ ও জলপাইগুড়িতেও নৌকো তৈরি করা হয়, কিন্তু বলাগড়ের নৌ শিল্প অন্যরকম। সেই ইতিহাসকে তুলে ধরতে, বিভিন্ন তথ্যের মাধ্যমে সাহায্য করেছিলেন অধ্যাপক ড. পিনাকী ঘোষ ও ড. শান্তনু পান্ডা।
আইনগতভাবে গবেষণাপত্র করে জমা দিতে হয়। সেইমতো পাঁচটি হিয়ারিংয়ের পর বলাগড়ের ডিঙি নৌকা স্বীকৃতি পেয়েছে। গবেষকরা বোঝানোর চেষ্টা করেন, নৌকার প্রথম ধাপই ছিল ডিঙি নৌকা।
বলাগড়ের নৌ শিল্প সমিতির সম্পাদক উৎপল বারিক বলেন, “জিআই ট্যাগ পাওয়ার ফলে ভারতে মানচিত্রে একটা জায়গা পেলাম। এতে আমরা খুশি। কিন্তু আর্থিকভাবে কতটা লাভবান হব বলতে পারব না। আমাদের নৌকা প্রধানত ব্যবহার করা হয় মৎস্যজীবীদের জন্য। তারাও আর্থিকভাবে দুর্বল। সেই কারণে আমরাও নৌকার উপযুক্ত দাম পাচ্ছি না। এমনকি নৌ শিল্পীরাও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারছে না।” জিআই স্বীকৃতি পেলেও সরকারি সাহায্য যদি না পাওয়া যায়, তাহলে অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে যাবে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তাঁরা।