
রিষড়া: বেশ কয়েক বছর পর আচমকা পুরনো বন্ধুর দোকানে হাজির। নিজের ফোনে চার্জ নেই জানিয়ে বন্ধুর মোবাইলে স্ত্রীর সঙ্গে কথা। আর সেই পুরনো বন্ধু কিছু বুঝে ওঠার আগে যুবককে ধরে নিয়ে গেল বেঙ্গল এসটিএফ। গতকাল রাতে হুগলির রিষড়ায় ঠিক এমনই ঘটেছে। জঙ্গি যোগ সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে জাফর শামস ওরফে সানি নামে এক যুবককে। জানা গিয়েছে, সন্দেহভাজন একের পর এক জঙ্গি গ্রেফতার হতেই রিষড়ায় গা ঢাকা দিয়েছিল সানি।
একসময় রিষড়ার গান্ধী সড়কে ভাড়া বাড়িতে থাকত সানির পরিবার। গতকাল রিষড়ার সন্ধ্যা বাজার থেকে জাফর শামস ওরফে সানিকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ, আইএসআই এজেন্ট রানা রউফকে বন্ধু পরিচয় দিয়ে সালকিয়ার কারখানায় কাজ পাইয়ে দিয়েছিল সানি। তার ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরিতেও সাহায্য করেছিল বলে খবর। রানা রউফ গ্রেফতার হওয়ার পর তপসিয়া থেকে আরও দু’জনকে গ্রেফতার করে এসটিএফ। বিপদ শিয়রে বুঝে পুরোনো জায়গা রিষড়ায় আসে সানি।
গতকাল সন্ধ্যা বাজারে এসে সেখানকার এক চাবিওয়ালা শেখ সোহরাব ভিকির থেকে মোবাইল নিয়ে বাড়িতে স্ত্রীকে ফোন করে সানি। সন্তানদের দেখে রাখতে বলে। সানি গ্রেফতার হওয়ার পর ভিকি বলেন, “বন্ধু ছিল অনেক দিন আগে। কালকে রাতে আসে। বলে, আমার ফোনের চার্জ শেষ গিয়েছে। বাড়িতে ফোন করব। এরপর আমার মোবাইল নিয়ে বাড়িতে ফোন করে।” স্ত্রীকে ফোনে কী বলেছিল সানি? ভিকি বলেন, “সানি ওর স্ত্রীকে বলেছিল, মেয়েকে ভালো করে রাখবি। তুই ভালো করে থাকবি।” কথা শেষ হওয়ার পর ভিকি পুরনো বন্ধুর কাছ থেকে ফোনটা নেয়। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই এসটিএফের আধিকারিকরা এসে সানিকে ধরে নিয়ে চলে যান বলে ভিকি জানান। কিছুটা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “কত বছর দেখিনি। খামোখা এখানে এসে এসব করল।”
রিষড়ার গান্ধী সড়কে একসময় ভাড়া বাড়িতে থাকত সানির পরিবার। বছর সাতেক আগে কলকাতার তপসিয়ায় চলে যায়। পাক যোগে সানি গ্রেফতার হওয়ার খবরে হতবাক তার এক সময়ের প্রতিবেশী ওয়াসি আহমেদ। তিনি বলেন, গান্ধী সড়কে যে বাড়িতে সানিরা থাকত, সেই টালির বাড়ি এখন আবাসন হয়েছে। সানির বাবা রিষড়ার জুটমিলে কাজ করতেন এক সময়ে।