Chinsurah Durga Puja 2026: মণ্ডপে ঘুঘুর বাসা, উদ্যোক্তারা যা করলেন, দর্শনার্থীদের কাছে পৌঁছল প্রশংসনীয় বার্তা

Durga Puja 2026: সুকান্ত নগর দুর্গাপুজো কমিটির বিশেষত্ব হল, এই মণ্ডপ তৈরির জন্য বাইরে থেকে কোনও পেশাদার ডেকোরেটর আনানো হয়নি। পাড়ারই কিছু উদ্যমী যুবক— যাদের কেউ রঙের মিস্ত্রি, কেউ রাজমিস্ত্রি তো কেউ আবার কাঠের কাজ করেন— তারা নিজেরাই গত তিন মাস ধরে কঠোর পরিশ্রম করে মধ্যপ্রদেশের ঐতিহাসিক সাঁচী স্তূপের আদলে অপূর্ব এক মণ্ডপ নির্মাণ করেছেন।

Chinsurah Durga Puja 2026: মণ্ডপে ঘুঘুর বাসা, উদ্যোক্তারা যা করলেন, দর্শনার্থীদের কাছে পৌঁছল প্রশংসনীয় বার্তা
মণ্ডপে ঘুঘুর বাসাImage Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী

Oct 16, 2026 | 5:30 PM

চুঁচুড়া: পুজোর উৎসবে শুধু মানুষের আনন্দই নয়, অবলা জীবের বাঁচার অধিকারকেও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এক অনন্য মানবিকতার নজির গড়ল হুগলির চুঁচুড়ার সুকান্ত নগর দুর্গাপুজো কমিটি। মণ্ডপে বাসা বেঁধেছে দুটি ঘুঘু পাখি এবং সেই বাসায় ফুটেছে চারটি ফুটফুটে বাচ্চা। জীবপ্রেম ও পরিবেশচেতনার বার্তা দিয়ে পুজো কমিটির সদস্যরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন— প্রতি বছরের মতো বিজয়া দশমীর পর মণ্ডপ খুলে ফেলা হবে না; যতক্ষণ না পর্যন্ত ওই পাখির ছানারা ডানা মেলে উড়তে শিখছে, ততক্ষণ অক্ষত থাকবে তাদের এই নিরাপদ আশ্রয়।

সুকান্ত নগর দুর্গাপুজো কমিটির বিশেষত্ব হল, এই মণ্ডপ তৈরির জন্য বাইরে থেকে কোনও পেশাদার ডেকোরেটর আনানো হয়নি। পাড়ারই কিছু উদ্যমী যুবক— যাদের কেউ রঙের মিস্ত্রি, কেউ রাজমিস্ত্রি তো কেউ আবার কাঠের কাজ করেন— তারা নিজেরাই গত তিন মাস ধরে কঠোর পরিশ্রম করে মধ্যপ্রদেশের ঐতিহাসিক সাঁচী স্তূপের আদলে অপূর্ব এক মণ্ডপ নির্মাণ করেছেন।

কীভাবে এল ঘুঘুর বাঁসা?

পুজোর কাজ চলাকালীন মণ্ডপের সিলিংয়ের ওপরের অংশে নীরবে বাসা বাঁধে দুটি ঘুঘু পাখি। সেখানে ডিম পেড়ে ডিমে তা দেওয়ার পর সম্প্রতি চারটি বাচ্চাও জন্মায়। পুজো শুরুর মুখে বৃষ্টির হাত থেকে মণ্ডপ বাঁচাতে উপরে ত্রিপল চাপা দিতে গিয়েই পুজো উদ্যোক্তাদের চোখে পড়ে সেই সুদৃশ্য বাসা ও পাখি পরিবারটি।

ওদেরও বাঁচার অধিকার আছে

স্বভাবতই দশমী বা একাদশীর পর মণ্ডপ বাঁশ-ত্রিপল খুলে ফেলার নিয়ম থাকলেও এবার সেই নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটাতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি উদ্যোক্তারা। পুজো কমিটির সদস্য প্রণব পাল জানান, “আমরা নিজেরাই তো মণ্ডপটি তৈরি করেছি, তাই সিলিংয়ের ওপরে যে পাখি এসে বাসা বেঁধেছে তা প্রথমে বুঝতে পারিনি। ত্রিপল ঢাকা দেওয়ার সময় চোখে পড়ে বাসায় ডিম ফুটে বাচ্চা হয়েছে। আমরা সঙ্গে সঙ্গে স্থির করি, পুজো শেষ হয়ে গেলেও মণ্ডপ যেভাবে আছে সেভাবেই রাখা হবে। যতদিন না ছোট ছোট পাখির বাচ্চাগুলো নিজে থেকে উড়তে শিখছে, ততদিন মণ্ডপ খোলা হবে না। মানুষ যেমন বাঁচে, ওদেরও তো বাঁচার পূর্ণ অধিকার আছে।”

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us