
ভদ্রেশ্বর: নিজে বিধানসভা নির্বাচনে হেরেছেন। দল ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে সঙ্গীত মেলায় কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এক সঙ্গীতশিল্পী। এই পরিস্থিতিতে আরও অস্বস্তি বাড়ল রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের। তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ভদ্রেশ্বর পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান ফিরোজ খানকে গ্রেফতার করল পুলিশ। পৌরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসারের অভিযোগের ভিত্তিতে ফিরোজকে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
কে এই ফিরোজ খান?
হুগলির ভদ্রেশ্বরের তেলিনিপাড়া এলাকার তৃণমূল নেতা ফিরোজ। ২০২২ সালে পৌরসভা ভোটে জয়ী হন। তাঁকে ভাইস চেয়ারম্যান করে দল। তৃণমূলের অন্দরে সেইসময় জোর আলোচনা হয় যে, চন্দননগরের তৎকালীন বিধায়ক ও মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের আস্থাভাজন ফিরোজ। সেই জন্য ফিরোজকে পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়েছে। বিগতদিনে তেলিনিপাড়ায় অশান্তি পাকানোর অভিযোগ উঠেছিল পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। দিন দুয়েক আগে ভদ্রেশ্বর পৌরসভায় গিয়ে ঝামেলায় ওই তৃণমূল নেতা যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ।
পৌরসভার বেশ কিছু নথি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে পৌরসভা সূত্রে খবর। পৌরসভার পক্ষ থেকেই ভদ্রেশ্বর থানায় অভিযোগ করেন এক্সিকিউটিভ অফিসার। শুক্রবার দুপুরে ফিরোজ খানকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। পরে তাঁকে গ্রেফতার করে। আগামী কাল তাঁকে চন্দননগর আদালতে পেশ করা হবে। তৃণমূল নেতা ফিরোজ খানের বিরুদ্ধে আরও নানা অভিযোগ রয়েছে। সেই সবই খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন চন্দননগরের ডিসিপি।
গতকালই ভদ্রেশ্বর পৌরসভার চেয়ারম্যান প্রলয় চক্রবর্তী-সহ আট তৃণমূল কাউন্সিলর পদত্যাগ করেন।
২২টি ওয়ার্ডের ভদ্রেশ্বর পৌরসভা ছিল বিরোধী শূন্য। তবে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবি হতেই পরিস্থিতি বদল হতে শুরু করে। পৌরসভা নির্বাচনের অনেক আগেই ভদ্রেশ্বর পৌরসভার বোর্ড ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।