
শ্রীরামপুর: কারও বাড়িতে মিলেছে পাহাড়-প্রমাণ ত্রিপল, কারও বাড়ি থেকে উদ্ধার বস্তা বস্তা সার। তবে রাতের অন্ধকারে শয়ে শয়ে বালতি পড়ে থাকতে দেখে চমকে ওঠেন এলাকার বাসিন্দারা। আর সেই বালতির সূত্র ধরেই গ্রেফতার করা হল দুই তৃণমূল নেতাকে।
শ্রীরামপুর নবগ্রাম পঞ্চায়েতের বাইরে থেকে শুক্রবার রাতের অন্ধকারে উদ্ধার হয় শতাধিক বালতি। অভিযোগ শুনে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। বালতিগুলি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
বালতিগুলির গায়ে ‘আমার পাড়া আমার সমাধান’ প্রকল্পের নাম লেখা। অভিযোগ, পঞ্চায়েত সদস্যদের কাছে এই বালতিগুলি দেওয়া হয়েছিল। বর্জ্য ফেলার জন্য এগুলি এলাকার সাধারণ মানুষের বাড়িতে বিতরণ করার কথা ছিল। কিন্তু তা করা হয়নি বলে অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে বালতিগুলি মজুত রাখা হয়েছিল তৃণমূল নেতাদের বাড়িতে। সেই অভিযোগেই দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এই সেই ফেলে যাওয়া বালতি
বিরোধীদের অভিযোগ, প্রকল্পের সামগ্রী সাধারণ মানুষের কাছে না পৌঁছে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া বালতিগুলি কে ফেলে গেল পঞ্চায়েত চত্বরে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এদিকে, শ্রীরামপুরের রাজ্যধরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের পার্টি অফিসে বালতি, সাদা থান, মশারি মজুত থাকতে দেখে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি। ওই অঞ্চলের প্রাক্তন তৃণমূল প্রধান মোহন মন্ডল ও তৃণমূল নেতা বিষ্ণু মন্ডলকে গ্রেফতার করেছে শ্রীরামপুর থানার পুলিশ। ‘বালতি চুরি’র অভিযোগ তুলে কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না বিরোধীরা। বিজেপির প্রশ্ন, বালতি বেশি থাকতেই পারে, সেগুলি নির্দিষ্ট সময়ে পঞ্চায়েত দফতরে জমা দেওয়া উচিৎ ছিল, এভাবে ফেলে যাওয়া হল কেন, সেই প্রশ্নই উঠছে।