
চুঁচুড়া: সিজারের পরই কোমায় চলে গিয়েছিলেন তৃণমূল সদস্য অপর্ণা পাত্র। কলকাতার হাসপাতাল ঘুরে চুঁচুড়ার একটি নার্সিংহোমে ভর্তি থাকার পর বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিল পরিবার। শুক্রবার দলের নেতাদের কথা শুনে নিউরো চিকিৎসার জন্য বাঙ্গুর হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চরম হয়রানির শিকার হতে হল রোগী ও তাঁর পরিবারকে। কোনও ক্রমে কলকাতা থেকে চুঁচুড়া ইমামবাড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করা হয় তাঁকে। কিন্তু ততক্ষণে অক্সিজেন স্যাচুরেশান অনেকটাই কমে অবস্থা খারাপ হয়ে যায় রোগীর। ভর্তি করা হয় আইসিইউ-তে।
অপর্ণার ভাই প্রসেনজিৎ মাজি জানান, বিধায়ক অসিত মজুমদার তাঁদের বলেছিলেন বাঙ্গুরে নিয়ে যেতে। একটা ফোন নম্বরও দিয়েছিলেন তিনি। মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ওএসডি কুণাল দাস নামে একজনের নম্বরও দেন। ভর্তির ব্যবস্থা হয়ে যাবে, এমনই আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু হাসপাতালে গিয়ে বারবার ফোন করেও তাঁদের সঙ্গে কথা বলা যায়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরে এক পুলিশের সাহায্যে লাইনে দাঁড়িয়ে আউটডোরে দেখানো হয় রোগীকে। কিছু ওষুধ দিয়ে, কয়েকটা পরীক্ষা করতে বলেন চিকিৎসক। সারাদিন পরে সন্ধ্যায় অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে কলকাতা থেকে চুঁচুড়া নিয়ে যাওয়া হয় ওই তৃণমূলকর্মীকে। কিন্তু সারাদিনের ধকলে অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়।
হুগলির পোলবার সুগন্ধা গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা অপর্ণা পাত্র(২৫) সুগন্ধা পূর্বের তৃণমূল সদস্য। গত ৬ জানুয়ারি তাঁর সিজার করা হয়। কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর কোমায় চলে যান অপর্ণা, তাঁর জ্ঞান ফিরছিল না। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে তাঁকে কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে কয়েকদিন আইসিসিইউ-তে ভর্তি রাখার পর চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন ৮০ শতাংশ ব্রেন ডেড হয়েছে প্রসূতির, চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন না। হাসপাতালে খরচও হচ্ছিল অনেক তাই চুঁচুড়াতে আবার ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। চুঁচুড়ার একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। সেখানে কিছুদিন ভর্তি রেখে বাড়িতে নিয়ে চলে যাওয়া হয় অপর্ণাকে।
দলের পঞ্চায়েত সদস্যর এই অবস্থা শুনে সেই সময় বিধায়ক অসিত মজুমদার, সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় নার্সিংহোমে গিয়ে তাঁকে দেখে এসেছিলেন। প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছিলেন। কিন্তু কলকাতায় তাঁকে চরম হেনস্থার শিকার হতে হল।
চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদার জানান, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বারের ওএসডির সঙ্গে কথা হয়েছিল তাঁর। তিনি একজনের নম্বর দিয়েছিলেন। তাঁর কথাতেই অপর্ণার পরিবারকে পাঠানো হয়েছিল বাঙ্গুরে। বিধায়ক বলেন, “আমরা তাঁকে ভর্তি করাতে পারলাম না, এটা আমাদের ব্যর্থতা। আমি চেষ্টা করছি বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের নিউরো ডিপার্টমেন্টে যদি ভর্তি করানো সম্ভব হয়।”