
হুগলি: ট্রেন আসছে। অথচ রেলগেট খোলা। শেষে হর্ন বাজাতে থাকলেন ট্রেন চালকই। অভিযোগ, তারপরই হুঁশ ফেরে গেটম্যানের। রেলগেট বন্ধ করেন। অভিযোগ, গেটম্যান ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। সেইসময় রেললাইন পারাপার করা স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচলেন তাঁরা। মাস দুয়েক আগের মুর্শিদাবাদের রেলগেট খোলা থাকায় দুর্ঘটনার কথাও তুলে ধরলেন তাঁরা। তবে ঘুমিয়ে পড়ার অভিযোগ অস্বীকার করলেন গেটম্যান। ঘটনাটি কাটোয়া লাইনে সোমড়া স্টেশনের কোলোড়া রেলগেটের।
গত ১৭ জুলাই মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণ স্টেশন ও গোবিন্দপুর রেলগেটের মাঝে মর্মান্তিক রেল দুর্ঘটনা ঘটে। খোলা লেভেল ক্রসিংয়ে একটি পুলকারকে ধাক্কা মারে প্যাসেঞ্জার ট্রেন। মৃত্যু হয় চার স্কুল পড়ুয়া-সহ পাঁচজনের। গেটম্যানকে পরে গ্রেফতার করা হয়।
মুর্শিদাবাদের মতো কোলোড়া রেলগেটেও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ ব্যান্ডেল-কাটোয়া শাখার সোমড়া স্টেশনের কাছে কোলোড়া রেলগেটের কিছুটা আগে ৩৭৭৫৪ ডাউন কাটোয়া ব্যান্ডেল লোকাল ট্রেন দাঁড়িয়ে হর্ন দিচ্ছিল। ট্রেনের হর্ন শুনে কেবিন থেকে বেরিয়ে তড়িঘড়ি গেট বন্ধ করেন গেটম্যান।
গেট খোলা থাকলে অনেকেই রেলগেট পার হন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এক্ষেত্রে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। গেট খোলা দেখে চালক ট্রেন দাঁড় করিয়ে দেওয়ায় বিপদ হয়নি। গেট বন্ধ হওয়ার পর ট্রেন বেরিয়ে যায়। এরপর গেটম্যানের কাছে এই নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানতে চান। তখন তিনি ঘুমিয়ে পড়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। দাবি করেন, তিনি গেট বন্ধ না করলে ট্রেন যেত না। এই নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে গেটম্যানের বচসা বাধে। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা গিয়ে জিরাট স্টেশন মাস্টারের কাছে এই নিয়ে নালিশ করেন।
কী বলছে রেল?
এই নিয়ে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকরিক শিবরাম মাঝি ফোনে জানান, “ওই গেটটি ইন্টারলক গেট। তাই গেট খোলা থাকলে ট্রেন যাবে না। গেট খোলা দেখে লোকো পাইলট হর্ন বাজান। তখন গেট ফেলা হয়। গেট কেন খোলা ছিল, তার তদন্ত হবে। একটা এনকোয়ারি অর্ডার করা হয়েছে। যদি কারও গাফিলতি পাওয়া যায়, তখন ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন নেওয়া হবে।”