
আরামবাগ: চিকিৎসক স্বামীর সঙ্গে দেখা করার দাবি, আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বরে ধরনায় বসলেন এক মহিলা। মঙ্গলবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। রোগীর পরিজন, হাসপাতালের কর্মী এবং সাধারণ মানুষের ভিড় জমে যায় ঘটনাস্থলে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ধরনায় বসা ওই মহিলার নাম মামনি দে। তাঁর বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় বীরসিংহ গ্রামে।
তাঁর দাবি, আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক পি সি টুডু-র সঙ্গে আইনিভাবে রেজিস্ট্রি করে বিবাহ হয় তাঁদের। তাঁদের একটি সন্তানও রয়েছে।মহিলার অভিযোগ, চিকিৎসকের এর আগে আর একটি বিয়ে হয়েছিল এবং পরে সেই বিবাহবিচ্ছেদ হয়। কিন্তু গত এক মাস ধরে ওই চিকিৎসক পুনরায় প্রথম পক্ষের স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী হিসেবে তাঁর সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরেই তিনি স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনও সাড়া পাননি বলেও দাবি করেন। এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই তিনি আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এসে চিকিৎসক স্বামীর সঙ্গে একবার দেখা করার দাবিতে পোস্টার হাতে ধরনায় বসেন। হাসপাতাল চত্বরে পোস্টারে তিনি নিজের দাবি তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, তিনি শুধু স্বামীর সঙ্গে কথা বলতে চান এবং সংসার ফের আগের মতো গড়ে তুলতে চান।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতাল চত্বরে কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। পরে আরামবাগ থানার পুলিশও সেখানে আসে। হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সেই কারণে তাঁকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ধরনা না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি ধরনা প্রত্যাহার করে হাসপাতাল চত্বর ছেড়ে চলে যান। এ প্রসঙ্গে আরামবাগ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রিন্সিপাল ডাঃ রমাপ্রসাদ রায় জানান, “ওই মহিলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে কোনও লিখিত অভিযোগ জমা দেননি। তাই বিষয়টিতে আমাদের সরাসরি হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই। আমরা তাঁকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলি। এরপর তিনি হাসপাতাল থেকে চলে যান। পরবর্তী বিষয়টি পুলিশ দেখছে।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। অন্যদিকে, চিকিৎসক পিসি টুডু-র পক্ষ থেকে এই অভিযোগের বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।