
আরামবাগ: পেটে তীব্র যন্ত্রণা, তবু ডাক্তার বলেছিলেন, সব ঠিক আছে। এরপরই এল দুঃসংবাদ। জানানো হল, গর্ভস্থ সন্তান আর বেঁচে নেই। এই খবর শুনেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে পরিবার। চিকিৎসকের গাফিলতির অভিযোগে উত্তপ্ত আরামবাগের মেডিকেল কলেজ-হাসপাতাল।
গর্ভস্থ শিশুর মৃত্যু ঘিরে তুলকালাম কাণ্ড আরামবাগে। চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে উঠল অভিযোগের তির। পরিবারের দাবি, শারীরিক অসুস্থতার কারণে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মিষ্টি ধারা নামক রোগীণীকে আরামবাগ প্রফুল্ল চন্দ্র সেন মেডিক্য়াল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, মা ও গর্ভস্থ সন্তান ভালো আছেন। দুজনেই সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। তাদের হাসপাতাল থেকে ছুটিও দিয়ে দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পরই তীব্র যন্ত্রণা শুরু হয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে, ওই গর্ভস্থ শিশুর মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকদের চরম অবহেলার অভিযোগ তুলে হাসপাতালের ভেতর কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান ক্ষুব্ধ পরিবার-পরিজনরা।
আরামবাগ শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ঘিয়া এলাকার বাসিন্দা মিষ্টি ধারাকে শারীরিক অসুস্থতার কারণে গত ৩১ আগস্ট আরামবাগ প্রফুল্ল চন্দ্র সেন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। রোগীর পরিবারের দাবি, চিকিৎসকরা প্রথম থেকেই জানাচ্ছিলেন গর্ভস্থ শিশু ও মা দুজনই ভালো আছেন। শুক্রবার সকালেও দায়িত্বরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান যে সব ঠিকঠাক রয়েছে। এরপর বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
বাড়ি পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই মহিলার পেটে তীব্র যন্ত্রণা শুরু হয়। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে, বিকাল চারটে নাগাদ তাঁকে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। অভিযোগ, সেখানে পুনরায় পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান গর্ভস্থ শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন রোগীর স্বজনরা।
তারা অভিযোগ করেন, চিকিৎসকদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও অবহেলার কারণেই গর্ভস্থ শিশুর প্রাণ গেল। এক চিকিৎসক না দেখেই ছুটি লিখে দিচ্ছেন এবং অন্য চিকিৎসকরা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ তোলেন রোগীর স্বামী সুব্রত ধারা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। তাঁরা অবিলম্বে দোষী চিকিৎসকদের চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও উপযুক্ত বিচারের দাবি জানিয়েছেন। পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে হাসপাতাল চত্বরে চরম উত্তেজনা ছড়ায়, যদিও এই বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কিছু জানানো হয়নি।