
হাওড়া: রাজ্যে প্রথমবার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। আর ক্ষমতায় আসার পর তোলাবাজি ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে কড়া বার্তা গিয়েছে গেরুয়া শিবিরের রাজ্য নেতৃত্ব। তারপরও বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দলে উত্তপ্ত হয়ে উঠল হাওড়ার শালিমার। শালিমারের তিন নম্বর রেলগেট এলাকায় অস্থায়ী দোকান তৈরি করাকে কেন্দ্র করে বিজেপির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে তুমুল বচসা ও হাতাহাতির অভিযোগ উঠল। ঘটনায় গুরুতর জখম অবস্থায় হাওড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিজেপির দক্ষিণ হাওড়া-এক নম্বর মণ্ডলের সহ-সভাপতি দিবাকর চৌধুরী। উভয় পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে এজেসি বোস বি গার্ডেন থানার পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শালিমার ভাঁড়পট্টি এলাকার বাসিন্দা বিজেপির বস্তি উন্নয়ন সেলের সদস্য ললিত নারায়ণ মেহতা তিন নম্বর রেলগেট এলাকায় রেল ওভারব্রিজের নিচে খাবারের একটি অস্থায়ী দোকান তৈরি করছিলেন। এর আগে ওই দোকানটি অন্য এক ব্যক্তি চালাতেন বলে দাবি। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর সেই বন্ধ দোকানটি ললিত দখল করেছিলেন বলে অভিযোগ। ঘটনার খবর পেয়ে রবিবার দুপুরে বিষয়টি দেখতে যান স্থানীয় মণ্ডল পর্যায়ের বিজেপি কর্মীরা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন মণ্ডলের সহ-সভাপতি দিবাকর চৌধুরী। দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল বচসা শুরু হয়।
ললিতের অভিযোগ, আচমকা দিবাকর তাঁকে চড় মারেন। এমনকি পিস্তল দেখিয়ে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়।পঞ্চাশ হাজার টাকা চাওয়া হয়। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পাল্টা অভিযোগ অন্য পক্ষের। তাঁদের অভিযোগ, বেআইনিভাবে দোকান দখলের বিষয় জানতে চাইলে দলবল নিয়ে ললিত হামলা চালান। ঝামেলার ছবি ধরা পড়ে সিসিটিভি-তে। মণ্ডল সহ-সভাপতি দিবাকর চৌধুরীর মাথায় আঘাত করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর জখম অবস্থায় গত তিন দিন ধরে হাওড়া জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন দিবাকর।
দক্ষিণ হাওড়া-১ নম্বর মণ্ডলের বিজেপি কর্মী মৃত্যুঞ্জয় পাণ্ডে ও সুন্দর পাসোয়ান বলেন, ললিত একসময় বিজেপি করতেন। তবে বর্তমানে তাঁর কোনও পদ নেই। শালিমার রেলগেটের কাছে দোকান দখলের খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাটি দেখতে গিয়েছিলেন। তখনই ললিত হামলা চালান। অভিযোগ অস্বীকার করে ললিত বলেন, তিনি দোকান সারাচ্ছিলেন, দখল নয়।
ঘটনায় দুই পক্ষের তরফেই থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। শালিমার এলাকায় বিজেপির প্রকাশ্য গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ঘটনায় অস্বস্তিতে পদ্ম নেতৃত্ব। বিজেপির হাওড়া সদরের সম্পাদক ওমপ্রকাশ সিং বলেন, এটা বিজেপির কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নয়। আসলে ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূলের কিছু লোক পিছনের দরজা দিয়ে বিজেপিতে ঢুকে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছে। তবে এই ঘটনায় দলের কেউ জড়িত থাকলে নেতৃত্ব অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে। পুলিশও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিক।