
বাগনান: সিলিং থেকে ঝুলছে যুবতী। বাপের বাড়ির লোকজন যেতেই শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি আত্মহত্যা করেছে ওই যুবতী। কিন্তু তা কোনওভাবেই মানতে পারেনি যুবতীর বাপের বাড়ির লোকজব। ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। তাঁদের দাবি, মেয়েকে মেরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। খুন করেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। জমাইয়েরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। শুক্রবার সন্ধ্যায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে বাগনান কাচারি পাড়ায়। খবর যায় পুলিশে। খবর পাওয়া মাত্রই এলাকায় আসে পুলিশ। পুলিশ আসতে আবার ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার লোকজন। তাঁদের ঘিরে ধরে দেখানো হয় বিক্ষোভ। দোষীদের গ্রেফতারের দাবিও ওঠে।
পুলিশই শেষে যুবতীর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য উলুবেড়িয়া শরৎচন্দ্র মেডিকেল কলেজে পাঠায়। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও এলাকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। স্থানীয় সূত্রে খবর, বছর দশেক আগে বাগনানের কাচারি পাড়ার মইদুল মণ্ডলের সঙ্গে মনীষা মণ্ডলের বিয়ে হয়। বাড়িতে তাঁদের একটি ৯ বছরের মেয়ে ও ৩ বছরের ছেলে আছে। কিন্তু মনীষার বাপের বাড়ির লোকজন বলছে, বিয়েতে অনেক পণ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও ওর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি মিটতো না। মেয়ের উপর চলতো অত্যাচার।
এদিকে দেহ উদ্ধারের পরই মইদুলের বাড়িতে মনীষার বাপের বাড়ির লোকজন ব্যাপক ভাঙচুর চালায় বলেও অভিযোগ। একটি বাইকেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। মনীষার বোন মনিরা বেগম বলেন, “বছর দশেক আগে দুই বাড়ির সম্মতিতেই ওদের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় কয়েক লক্ষ টাকার সোনা ও রূপো দেওয়া হয়। কিন্তু, তাও ওদের দাবি মেটেনি। মাঝেমধ্যেই টাকা-পয়সা চেয়ে পাঠাতো কিছুদিন আগে জামাইকে একটা বুলেট মোটর সাইকেলও কিনে দেওয়া হয়। তারপরেও ওদের টাকার দাবি মেটেনি। জামাইবাবু তো অনেক মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতো। আমার দিদি তাঁর প্রতিবাদ করাতেই জামাইয়ের মা, কাকিমা ও অন্যান্যরা মিলে ওকে মেরে ফেলেছে।”