
শিবপুর: তারাতলায় ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর উঠে এসেছে তাঁর নাম। তাঁর গ্রেফতারির পর বিভিন্ন মহলে তাঁকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ বলছেন, কলকাতা পৌরনিগমে তাঁর অনুমতি ছাড়া ‘একটা পাতা’-ও নড়ত না। তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠে আসছে। কিন্তু, ধৃত কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবপুরের প্রতিবেশীরা কী বলছেন? তাঁদের চোখে কালীচরণ কেমন ছেলে? এদিন টিভি৯ বাংলার প্রতিনিধির কাছে মুখ খুললেন কালীচরণের প্রতিবেশীরা।
কলকাতা পৌরনিগমের প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন ওএসডি হলেন কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। হাওড়ার শিবপুরের ক্ষেত্র ব্যানার্জি লেনের বাসিন্দা কালীচরণ। স্ত্রী, বৃদ্ধা মা এবং ছেলেকে নিয়ে বসবাস। শুক্রবার ক্ষেত্র ব্যানার্জি লেনের তিনতলা বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, বাড়ি তালাবন্ধ। কয়েক মাস আগে বাড়ির সংস্কার শুরু হয়েছে। তাই পাড়ার একটি বাড়িতে ভাড়ায় পরিবার নিয়ে রয়েছেন কালীচরণ। এই ফ্ল্যাটের দোতলায় গিয়ে ডাকাডাকি করলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। বাড়ির পরিচারিকা ভেতর থেকে জানালেন, কেউ নেই। পাড়ার লোকেরা জানালেন, সকাল থেকেই কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের লোকজনকে দেখতে পাচ্ছেন না তাঁরা।
কী বলছেন কালীচরণের প্রতিবেশীরা?
প্রতিবেশীদের কাছে অত্যন্ত ভদ্র এবং ভালো ছেলে কালীচরণ। কোনওভাবেই বিশ্বাস করতে পারছেন না এই ঘটনা। তাঁদের অভিযোগ, পাড়ার ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে। ফিরহাদ হাকিমকে গ্রেফতার করা উচিত বলে দাবি প্রতিবেশীদের। ভারতী মান্না নামে এক প্রতিবেশী বলেন, “আমাদের সঙ্গে কোনওদিনও খারাপ ব্যবহার করেননি। দেখা হলেই বলতেন, কাকিমা কেমন আছেন?” তিনি আরও বলেন, “যদি ৫-৭টা বাড়ি থাকত, তাহলে বাড়ি সংস্কারের সময় ভাড়াবাড়িতে গিয়ে কেন উঠত? আগে ববি (ফিরহাদ) হাকিমকে আগে ধরা উচিত।”
২০০৩ সালে রেভিনিউ সার্ভিসে যোগ দেন কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০০৬ সালে ডব্লিউবিসিএস এক্সিকিউটিভ পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। পরে পুলিশের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম হন তিনি। ২০০৮ সালে পুলিশে যোগ দেন। এরপর ২০০৯ সালে মিউনিসিপাল সার্ভিস কমিশনের ডেপুটি ম্যানেজারের পরীক্ষায় প্রথম হন। তখনই যোগদান করেন কলকাতা পৌরনিগমের ৯ নম্বর বরোতে। ওই সেই বরোতে তখন চেয়ারম্যান ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। শোনা যায়, তখন থেকেই ফিরহাদ হাকিমের ঘনিষ্ঠ এবং ‘গুড বয়’ হিসেবে নিজেকে তৈরি করেন কালীচরণ। ২০১৮ সালে ফিরহাদ হাকিম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর কালীচরণকে নিজের ওএসডি পদে বসান তিনি। তারপর থেকে ফিরহাদের হাতে প্রত্যেকটা ফাইল পৌঁছত কালীর হাত ধরেই।