
হাওড়া: ২০১৩-র পর থমকে যায় কলকাতার ‘লালবাড়ি’র ইতিহাস। আচমকা রাইটার্স বিল্ডিং (Writers Building) থেকে সব সরিয়ে হাওড়ার ১৪ তলা বিল্ডিং-এ চলে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নামকরণ হয় ‘নবান্ন।’ তারপর ১৩ বছর ধরে অনেক ইতিহাসের সাক্ষী থেকেছে সেই ভবন। ভিনরাজ্যের নেতা-মন্ত্রী থেকে তাবড় ব্যবসায়ীরা গিয়েছেন সেখানে। অনেক ঝড়ের রাত নবান্নেই কাটিয়েছেন মমতা। আবার আরজি কর কাণ্ডের-আবহে সেই নবান্নের সামনে তুমুল প্রতিবাদের কাঁপিয়ে দিয়েছিল গোটা বাংলাকে। এবার পরিবর্তনের পরিবর্তন হল। নবান্নের কী হবে?
জানা যায়, বিগত বাম সরকারের আমলে তৈরি করা হয়েছিল ওই বিল্ডিং। রাজ্যের বস্ত্র শিল্পের উন্নয়নের স্বার্থে হাওড়ার শিবপুরে তৈরি হয়েছিল এই ভবন। হাট কমপ্লেক্স তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল বামেদের। আসলে হাওড়ায় মঙ্গলাহাট সহ আরও অনেক হাট ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। সেগুলি এক ছাদের তলায় আনাই ছিল বামেদের উদ্দেশ্য। কিন্তু বিল্ডিং তৈরির পরই ক্ষমতা থেকে চলে যায় বামেরা।
বামফ্রন্ট সরকারের পতনের পর ২০১১ সালে পরিবর্তন আসে রাজ্যে। তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের যখন দু’বছর বয়স সেই সময় রাইটার্স বিল্ডিং থেকে রাজ্যের মুখ্য প্রশাসনিক কার্যালয় হয়ে ওঠে এই হাওড়ার বহুতল বাড়ি, যার নাম দেওয়া হয় নবান্ন।
২৬-এ ক্ষমতায় এসেছে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার। জানা যাচ্ছে, নতুন সরকার রাজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে পুনরায় রাইটার্স বিল্ডিংটি ব্যবহার করবে। আপাতত মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় হবে বিধানসভার অন্দরে। অর্থাৎ নবান্নে যাওয়ার কোনও পরিকল্পনাই নেই বিজেপি সরকারের। তাই নবান্ন বাড়ির কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কেউ কেউ চাইছেন যে বাম আমলে সরকার যে স্বপ্ন দেখেছিল, সেই স্বপ্ন নতুন বিজেপি সরকার যাতে পূরণ করে। বাসিন্দাদের অনেকেই চাইছেন এখানে আবারও বস্ত্রশিল্পের উন্নয়নে হাট কমপ্লেক্স তৈরি করা হোক। আবার কেউ কেউ বলছেন, হাট কমপ্লেক্স তৈরি করলে যে পরিবেশ এখানে তৈরি হয়েছিল, সেটা নষ্ট হবে। আবার বেশ কিছু মানুষ চাইছেন, এখানে কোনও সরকারি অফিস তৈরি করা হোক।
সিপিএম নেতা সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি আর্জি জানাব, আবার যে ওই বিল্ডিং বস্ত্রশিল্পের জন্য ব্যবহারের যেন ব্যবস্থা করা হয়।’ বিজেপির পক্ষ থেকে শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ জানান শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে যে বিজেপি সরকার তৈরি হচ্ছে, তাতে শিল্প, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, নারী-সুরক্ষা ক্ষেত্রেই গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “হাওড়া থেকে তো শিল্প সংস্কৃতি তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার যাতে শিল্পনগরীর গৌরব ফিরে আসে, সেই বিষয়ে বিজেপি প্রস্তুত।”