
বালুরঘাট: সীমান্তবর্তী দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ৬৬টি গ্রামকে ‘ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ’ (Vibrant Villages Programme) হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্র সরকার। সীমান্ত এলাকার গ্রামগুলির সামগ্রিক পরিকাঠামো ও আর্থ সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যেই এই প্রকল্পের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই সীমান্তের এই সব গ্রামের উন্নয়নের জন্য প্রায় তিন কোটি টাকা করে বরাদ্দ করা হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
জানা যাচ্ছে, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে মূলত চারটি ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রথম হল রাস্তা। দ্বিতীয় বিদ্যুৎ, তৃতীয় টেলিকম এবং ইন্টারনেট পরিষেবায়। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, পশুপালন সহ বিভিন্ন সরকারি পরিষেবার সম্প্রসারণের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির দিকেও জোর দেওয়া হবে। প্রশাসনের এমন ঘোষণায় খুশি সীমান্তের মানুষজন।
সম্প্রতি, বালুরঘাট ব্লক অফিস ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন বালুরঘাটের বিধায়ক বিদ্যুৎ কুমার রায়, তপনের বিধায়ক বুধরাই টুডু। বিডিও অফিসের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বালুরঘাটের বিডিও সোহম চৌধুরী ও বিএসএফের প্রতিনিধিরা। এছাড়াও জেলা প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলা শাসক বালা সুব্রহ্মণ্যম টি, অতিরিক্ত জেলা শাসক এজাজ আহমেদ, সুব্রত মহন্ত সহ অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
বৈঠকে কী কী আলোচনা হয়েছে?
বৈঠকে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে প্রকল্পের কাজ কীভাবে দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। জেলার আটটি ব্লকের মধ্যে বংশীহারি ও হরিরামপুর বাদে বাকি ছয়টি ব্লকের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে বালুরঘাট ব্লকেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক সীমান্তবর্তী গ্রাম রয়েছে।
প্রসঙ্গত, অতীতে সীমান্ত উন্নয়ন তহবিলের মাধ্যমে এই এলাকাগুলিতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করা হলেও, দীর্ঘদিন ধরে সেই প্রকল্পে বরাদ্দ বন্ধ ছিল বাংলায়। সরকারের পালাবদলের পর এবার সীমান্তের গ্রামগুলির উন্নয়ন হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
কী কী উন্নয়ন করা হবে?
সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে পাকা রাস্তা, বিদ্যুৎ, পানীয় জল, ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা
আর্থিক স্বচ্ছলতা বাড়াতে পর্যটন শিল্পের বিকাশের উপর জোর।
হাসপাতাল, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, স্কুল, পাকা-রাস্তা তৈরি
প্রকল্পে গুরুত্ব
বাংলার অন্যতম সমস্যা অনুপ্রবেশ। কেন্দ্রীয় সরকার এই নিয়ে আগেই কড়া বার্তা দিয়েছিল, যে দেশে অনুপ্রবেশকারীদের কোনও ঠাঁই নেই। মূলত, দেশের সুরক্ষার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ। বহুক্ষেত্রে দেখা যায় সীমান্তের গ্রামগুলি সরকারি প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকে। উন্নয়নের লাভ তারা ওঠাতে পারে না। সেই কারণেই সীমান্তের দিকে এবার নজর কেন্দ্রের। এর আগে এই ভাইব্র্যান্ট ভিলেজের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে মালদহ। এবার শুরু হচ্ছে দক্ষিণ দিনাজপুরে।