
জলপাইগুড়ি: জলপাইগুড়ির জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের ডিকাপারা এলাকায় ঘটে গেল মর্মান্তিক ঘটনা। ভাতের হাড়ি পুকুরে ফেলা নিয়ে পারিবারিক অশান্তি। আর এর জেরেই একেবারে খুনের ঘটনা। মৃত যুবকের নাম দীপঙ্কর রায় (২৩)। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে তাঁদের পরিবারে চার ভাই ও পাঁচ বোন। তবে এদের মধ্যে দুই ভাই কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন। পাঁচ বোনেরই বিয়ে হয়ে গিয়েছে। দীপঙ্করের ঘরে রয়েছে তাঁর স্ত্রী ও চার মাসের শিশু পুত্র।
এলাকার লোকজন বলছেন, সংসারের নানান খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে এই পরিবারে নিত্যদিন অশান্তি লেগেই থাকে। বুধবার রাতেও অশান্তি হয়। ঝামেলার মাঝেই দীপঙ্কর বাড়ির ভাতের হাঁড়ি একেবারে পুকুরে ফেলে দেন। এ নিয়ে তাঁর দাদা তাঁকে বকাঝকা শুরু করলে দাদার মোবাইল কেড়ে নিয়েও পুকুরে ফেলে দেন দীপঙ্কর। তাতেই আরও বেড়ে যায় ঝামেলা। শুরু হয়ে যায় মারামারি। অভিযোগ, দীপঙ্করকে চ্যালা কাঠ দিয়ে বেধড়ক মারধর করে তার দাদা ও বাবা। গুরুতর আহত হন দীপঙ্কর।
অভিযোগ রক্তারক্তি কাণ্ড হয়ে গেলেও দীপঙ্করকে চিকিৎসা না করে বাড়িতেই ফেলে রাখা হয়। অবশেষে বিনা চিকিৎসায় বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন। ঘটনার খবর পেয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রাজগঞ্জ থানার পুলিশ। স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে তার বাবা অমর রায় ও দাদাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকায় স্বভাবতই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শোরগোল প্রতিবেশীদের মধ্যে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৌভনিক মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, দু’জনকে গ্রেফতারের পর পুরোদমে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।