
জলপাইগুড়ি: কেউ তুলতে গিয়েছে স্কলারশিপের টাকা, কেউ আবার অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা। কিন্তু অ্যাকাউন্ট আপডেট করতেই চক্ষু চড়কগাছ। একের পর এক অ্যাকাউন্টে ঢুকল ৭০০ কোটির বেশি। এক পরিযায়ী শ্রমিকের মেয়ের অ্যাকাউন্টে ঢুকলো ৭৫৯ কোটি ৬৯ লাখ ৫১ হাজার ৯৫১ টাকা। ঘটনাকে কেন্দ্র ব্যাপক চাঞ্চল্য সীমান্ত শহর হলদিবাড়িতে। মেখলিগঞ্জ বিধানসভার দক্ষিণ বড় হলদিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের খাল পাড়া এলাকার বাসিন্দা সুপর্না রায়। হলদিবাড়ি বালিকা বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে। বাবা পরিযায়ী শ্রমিক। বর্তমানে কেরলে কর্মরত। তাঁর মেয়ের অ্যাকাউন্টে ওই বিশাল অঙ্কের টাকা ঢোকার খবর চাউর হতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সীমান্ত শহর হলদিবাড়িতে। ঘটনার তদন্ত শুরু করছে হলদিবাড়ি থানার পুলিশ।
একই ঘটনা সামনে এসেছে ময়নাগুড়িতেও। সেখানেও অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা তুলতে গিয়ে এক মহিলা দেখতে পান তার অ্যাকাউন্টে ৭০০ কোটির বেশি টাকা ঢুকেছে। ময়নাগুড়ি ব্লকের সাপটিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বাড়ি শেফালি রায় নামে ওই মহিলার। গৃহবধূর ছেলে দ্বীপেন রায় বলেন, “আজ সকালে মা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা তুলতে গিয়ে দেখে এই কাণ্ড। দেখা গিয়েছে ৭০০ কোটি টাকা ঢুকেছে। আমরা নিরাপত্তার স্বার্থে থানায় বিষয়টি জানিয়েছি। কোথা থেকে এই টাকা ঢুকেছে বুঝতে পারছি না।”
অন্যদিকে সুপর্নার পরিবার সূত্রে খবর, তাঁর অ্যাকাউন্টে স্কলারশিপের ৮০০ টাকা ঢোকার মেসেজ এসেছিল। এদিকে স্কুলে যাওয়ার জুতোর বেহাল দশা। তাই সুপর্না ঠিক করে ওই ৮০০ টাকা তুলেই নতুন জুতো কিনবে। তাই শনিবার বেলার দিকে দাদাকে নিয়ে একটি অনলাইন ক্যাফেতে যায় টাকা তুলতে। আগে থেকেই কিছু টাকা ছিল অ্যাকাউন্টে। শেষ পর্যন্ত তোলে ৯০০ টাকা। কিন্তু তারপর ব্যালেন্স চেক করতে গিয়ে রীতিমতো চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় সুপর্নার। দেখা যায় অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স রয়েছে ৭৫৯ কোটি ৬৯ লাখ ৫১ হাজার ৯৫১ টাকা। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যাঙ্কে অভিযোগ জানানো হবে বলে পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, একদিন আগে আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটাতেও একই ঘটনা সামনে এসেছে। এক দরিদ্র পরিবারে কোটি কোটি টাকা ব্যাঙ্ক একাউন্টে এসেছে। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে সেই ঘটনা। এরইমধ্যে এ ঘটনায় চাপানউতোর চলছে। কিন্তু কারা পাঠাচ্ছে এই টাকা? নাকি ব্যাঙ্কের ভুল? চলছে চর্চা।