
জলপাইগুড়ি: বাবার স্মৃতি বিজড়িত বেরুবাড়ি আন্দোলনের ‘সংকল্প বেদি’ পরিদর্শন করলেন কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী।
১৯৫৮ সালে ১০ অক্টোবর নেহেরু – নুন চুক্তির ফলে জলপাইগুড়ি জেলার বর্তমান সাউথ বেরুবারি গ্রামপঞ্চায়েতের দক্ষিণ অংশ চলে যায় পাকিস্তানে। প্রতিবাদে শুরু হয় আন্দোলন। মামলা করা হয় কলকাতা হাইকোর্টে। গ্রামবাসীদের পাশে দাঁড়িয়ে মামলা লড়েন বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তীর বাবা অমর প্রসাদ চক্রবর্তী।
এরপর কলকাতা হাইকোর্টে হেরে যান তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী নেহেরু। মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। সংবিধান সংশোধন না করে দেশের একটি অংশকে বিদেশের হাতে তুলে দেওয়ার কারণে সেখানেও হেরে যান নেহেরু। এরপর ১৯৬১ সালে সংবিধানের নবম সংশোধন করে সাউথ বেরুবারির দক্ষিণ অংশ পাকিস্তানকে দিয়ে দেন নেহেরু।
এরপর সাউথ বেরুবারির মানিকগঞ্জে রক্ত দিয়ে সংকল্প বেদি গড়ে শুরু হয় আন্দোলন। সেই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন বিচারপতির বাবা অমর প্রসাদ চক্রবর্তী।
এরপর ১৯৬৫ সালে শুরু হয় ভারত – পাকিস্তান যুদ্ধ। ৭১ সালে বাংলাদেশ গঠন হয়।তারপর ১৯৭৪ সালে ইন্দিরা – মুজিব চুক্তির ফলে দক্ষিণ বেরুবারির দক্ষিণ অংশ ভারতেই থেকে যায়। বিনিময়ে ৩ বিঘার দুই পাশে অঙ্গরপোতা ও দহগ্রাম বাংলাদেশে চলে যায়।
বাবার স্মৃতি বিজড়িত সেই বেরুবাড়ি আন্দোলনের সংকল্প বেদি পরিদর্শন করলেন হাইকোর্টের বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী। শুক্রবার বিকালে সস্ত্রীক বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী যান জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের দক্ষিণ বেরুবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের মানিকগঞ্জ বাজারে। সেখানে অবস্থিত ‘বেরুবাড়ি সংকল্প বেদিতে’ ফুলের মালা দিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন। বিচারপতিকে কাছে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন প্রতিরক্ষা কমিটির বরিষ্ঠ সদস্যরা। তাঁরা বিচারপতির কাছে তাঁর বাবার অবদানের নানান স্মৃতি তুলে ধরেন।