
জলপাইগুড়ি: ধূপগুড়ি ব্লকের ঝাড়আলতা-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ের গোডাউনে সরকারি প্রকল্পের সামগ্রী মজুত থাকাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তৃণমূল পরিচালিত এই পঞ্চায়েতের গোডাউনে পড়ুয়াদের জন্য বরাদ্দ ‘সবুজ সাথী’ প্রকল্পের ১৭টি নতুন সাইকেল, একাধিক হুইলচেয়ার এবং ত্রাণের পলিথিন ও ত্রিপল জমে থাকতে দেখেন স্থানীয় কয়েকজন যুবক।
স্কুলের পড়ুয়াদের জন্য নির্দিষ্ট সাইকেল এবং বিশেষ ভাবে সক্ষমদের জন্য বরাদ্দ হুইলচেয়ার উপভোক্তাদের হাতে না পৌঁছে পঞ্চায়েত কার্যালয়ে বছরের পর বছর আটকে থাকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সাইকেলগুলির উৎস কী, কোন দপ্তরের মাধ্যমে এগুলি আনা হয়েছিল এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের কেন দেওয়া হয়নি—তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে।
যদিও সাইকেলগুলি ইচ্ছাকৃতভাবে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট প্রশাসনিক প্রমাণ মেলেনি। কোনো সরকারি বিতরণ কর্মসূচি স্থগিত থাকা বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে সেগুলি সেখানে রাখা হয়ে থাকতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিরোধীদের অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের সামগ্রী সঠিক সময়ে বণ্টন না করে গোডাউনে ফেলে রাখা প্রশাসনিক উদাসীনতা ও গাফিলতির প্রমাণ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ১৭টি সাইকেল ও হুইলচেয়ারের বরাদ্দপত্র, চালান এবং মজুত সংক্রান্ত সমস্ত সরকারি নথি খতিয়ে দেখে নিরপেক্ষ তদন্ত করুক প্রশাসন।
ঘটনায় উপপ্রধান রবি রাভা বলেন, “অতিরিক্ত পলিথিন, কিংবা সামগ্রী থাকতেই পারে। সেটা জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষকে সাহায্য করার জন্য। যদি হঠাৎই আমাদের পাড়ার কারোর বাড়ি ভাঙে, যদি এসে বলেন প্লাস্টিক লাগবে, তাহলে হঠাৎ করেই কোথা থেকে দেব? সবুজ সাথীর সাইকেল দেওয়ার যে প্রকল্প আমাদের সরকার এনেছিল, তখন প্রচারের জন্য ব্লক থেকে নিয়ে আসা হয়। সাইকেলে চড়েই সরকারি প্রকল্পের প্রচার করা হয়।”