
ধূপগুড়ি: ঘরের ভিতরে ঢুকে পড়েছিল বিষধর কালাচ সাপ। কিন্তু সাপটি যে অত্যন্ত বিষাক্ত, তা বুঝতেই পারেননি বাড়ির মালিক। বরং সেটিকে দাঁড়াশ সাপ ভেবে মা মনসার আশ্রয় মনে করে দুধ-কলা, ফুল দিয়ে পুজো করে সেই ঘরেই রাত কাটিয়ে দিলেন তিনি। সকালে সাপটির নড়াচড়া দেখে সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। পরে এক সর্পপ্রেমী যুবক এসে সাপটি শনাক্ত করতেই রীতিমতো আতঙ্ক ছড়ায়। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি ব্লকের মাগুরমারি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়।
জানা গিয়েছে, কৃষ্ণগোপাল সরকার নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে সাপটি ঢুকে পড়েছিল। দাঁড়াশ সাপ মনে করে ঘরের মধ্যেই দুধ, কলা ও ফুল দিয়ে পুজো শুরু করেন তিনি। এমনকি বিষধর সাপটি ঘরের মধ্যেই থাকা অবস্থায় রাতও কাটিয়ে দেন। সকালে সাপ দেখতে প্রতিবেশীরা তাঁর বাড়িতে আসেন। প্রথমে তাঁরাও মনে করেছিলেন, বাড়িতে হয়তো মা মনসা আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু, কয়েকজনের সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি পরিবেশপ্রেমীদের জানানো হয়। খবর পেয়ে সাপপ্রেমী যুবক ভজন সাহা ঘটনাস্থলে পৌঁছন।
ঘরে ঢুকেই কার্যত চোখ কপালে ওঠে তাঁর। যে সাপটিকে দাঁড়াশ ভেবে বাড়ির গৃহকর্তা পুজো করছিলেন, সেটি আদতে অত্যন্ত বিষধর কালাচ। কুণ্ডলী পাকিয়ে ঠাকুরের আসনের পাশেই বসে ছিল সাপটি। তার সামনে তখনও রাখা ছিল দুধ, কলা। ছড়িয়ে রয়েছে ফুল।
বাড়ির মালিক জানান, তিনি সাপটিকে পুজো করে ফেলেছিলেন। কিন্তু পরে যখন জানতে পারেন, সেটি বিষধর কালাচ, তখন স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি। কারণ এত কাছাকাছি অবস্থানে থাকা বিষধর সাপটি যদি তাঁকে ছোবল মারত, তাহলে বড়সড় বিপদ ঘটে যেতে পারত।
এরপর সর্পপ্রেমী ভজন সাহা সাপটিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। সাপটির দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে চার ফুট বলে জানা গিয়েছে। উদ্ধারের পর সেটিকে নিরাপদে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়। সাপটি উদ্ধার হওয়ার পর আতঙ্কমুক্ত হন বাড়ির মালিক ও পরিবারের সদস্যরা।
সর্পপ্রেমী ভজন সাহা পরিবারের সদস্যদের সচেতন করে জানান, বর্ষার এই সময়ে বিষধর সাপ অনেক সময় নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বাড়ির ভিতরে ঢুকে পড়ে। তাই রাতে অন্ধকারে চলাফেরার সময় অবশ্যই আলো ব্যবহার করতে হবে। ঘুমোতে যাওয়ার আগে বিছানা ভালোভাবে ঝেড়ে নেওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।