
ধূপগুড়ি: ছানা পুষ্টিকর খাবার। সেই ছানা দিয়ে তৈরি হয় সন্দেশ, কালাকাঁদ, পনির-সহ নানা খাবার। কিন্তু বাজার থেকে কেনা ছানায় আদৌ কতটা ছানা রয়েছে? নাকি ছানার নাম করে মেশানো হচ্ছে ময়দা? জলপাইগুড়ির ধৃপগুড়িতে এমনই অভিযোগ সামনে এল খাদ্য সুরক্ষা দফতরের অভিযানে। নোটিস দেওয়া হল পাঁচ ব্যবসায়ীকে। যদিও ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, ছানাতে ময়দা না মেশালে রসগোল্লা তৈরি হবে না।
শনিবার ধূপগুড়ি শহরের ঘোষপাড়া এলাকায় একাধিক ছানা তৈরির কারখানা ও গোডাউনে অভিযান চালান খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন ধূপগুড়ি মহকুমা শাসকের দফতরের ডিএমডিসি সাব্বির আহমেদ মোল্লা, খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক সোনাম লামা এবং ধূপগুড়ি থানার পুলিশকর্মীরা।
একটি কারখানায় দুধের সঙ্গে ময়দা মেশানোর বিষয়টি আধিকারিকদের নজরে আসে। পাশাপাশি, ছানা তৈরির পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। একটি পাত্রে রাখা দুধের মধ্যে মাছি পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার জেরে প্রায় ৫০ লিটার দুধ নষ্ট করে ফেলা হয়।
এদিন ঘোষপাড়া এলাকায় মোট পাঁচটি ছানা তৈরির কারখানা ও গোডাউনের মালিককে নোটিস দেওয়া হয়। তাঁদের ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাদ্য সুরক্ষা বিধি মেনে উৎপাদন ব্যবস্থা না বদলালে কড়া পদক্ষেপ, প্রয়োজনে কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘোষপাড়ায় প্রায় ১২টি ছানা তৈরির কারখানা রয়েছে। আগামী দিনেও অভিযান চলবে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা। ধূপগুড়ি মহকুমার ডিএমডিসি সাব্বির আহমেদ মোল্লা বলেন, “কিছু কিছু অনিয়ম দেখা গিয়েছে। যেগুলো মানা উচিত ছিল। কিন্তু, মানা হয়নি। নোটিস দেওয়া হয়েছে। শোকজ করা হয়েছে।”
অন্যদিকে রাকেশ ঘোষ নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, “আধিকারিকরা এসে বললেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে। ৫০ কেজি দুধে চারটে মাছি পড়েছিল। দুধটা তাঁরা ফেলে দিলেন। তারপর বলছেন, ছানাতে ময়দা দেওয়া চলবে না। কিন্তু, ছানার দুধে ময়দা না দিলে রসগোল্লা হবে না। ময়দা দিতেই হবে। সেটা আমরা বোঝাতে পারছি না।” তবে কারখানায় সবরকম স্বাস্থ্যবিধি মানা হয় না বলে স্বীকার করে তিনি বলেন, “ফুড সেফটি অফিসাররা যা বললেন, সেটা এবার মেনে চলব।”