
ধূপগুড়ি: মেয়ের অন্নপ্রাশনের আগেই মর্মান্তিক পরিণতি! তারাপীঠের ঘটনায় এক লহমায় গোটা পৃথিবীটাই অন্ধকার হয়ে গেল পরিবারের কাছে। তারাপীঠে হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণ গেল ধূপগুড়ির রাকেশ শর্মার (৩২)। ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে রাকেশের বাড়িতে ভেঙে পড়েছে গোটা পাড়া। কয়েকদিন বাদেই মেয়ের অন্নপ্রাশন। তার আগেই আগুনে ঝলসে মৃত্যু হল বাবার।
বাবা-মা, ভাই, স্ত্রী আর পাঁচ মাসের মেয়েকে নিয়ে রাকেশের পরিবার। পাঁচ সদস্যের এই পরিবারের সংসার চলত রাকেশেরই আয়ে। এলাকার একটি হোটেলেই কাজ করতেন তিনি। তাঁর ছোট ভাই একটি ঘড়ির দোকানে কাজ করেন। আর্থিকভাবে অত্যন্ত কষ্টের মধ্যেই চলত তাঁদের সংসার।
১৪ অগস্ট এলাকারই তিন বন্ধুর সঙ্গে পুজো দিতে বেরিয়েছিলেন রাকেশ। কিছুদিন পরেই মেয়ের মুখেভাত। সেই উপলক্ষেই পুজো দিতে গিয়েছিলেন তিনি। সূত্রের খবর, বাবাধামে পুজো দেওয়ার পর রাকেশ ও তাঁর সঙ্গীরা তারাপীঠে যান। রাতে ওই অভিশপ্ত হোটেলেই ছিলেন তাঁরা।
তারাপীঠের হোটেলে আগুনে এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। কাকভোরে আগুন লাগে। তাই সকলেই সে সময়ে ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। হোটেলের রুমের দরজা খুলে বেরোতে পারেননি কেউ। কেউ পিছন থেকে লাফিয়েছেন। কেউ বাথরুম ঢুকে সাওয়ার চালিয়ে পিছনের জানলা দিয়ে চিৎকার করেছেন বাঁচার জন্য। রাকেশরাও সম্ভবত বেরোতে পারেননি।