
জলপাইগুড়ি: জঙ্গলে উদ্ধার হয় স্ত্রীর দেহ, তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার স্বামীর ঝুলন্ত দেহ। জলপাইগুড়ি জেলার বানারহাটের গয়েরকাটার মোরাঘাট রেঞ্জের জঙ্গলের এসএমজি–৩ কম্পার্টমেন্ট এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম চুমকি রায় (৩৬)। তিনি বানারহাট ব্লকের পূর্ব দুরামারি গ্রামের বাসিন্দা। স্বামীর নাম বিমল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মহিলার দেহ উদ্ধারের তদন্তে নেমে জানা যায়, মৃতার স্বামী বিমল রায় তাঁদের ছেলেকে একটি ভয়েস বার্তা পাঠিয়েছিলেন। সেই বার্তায় তিনি দাবি করেন, তিনি তাঁর স্ত্রীকে খুন করেছেন। পাশাপাশি তিনি নিজেও আত্মহত্যা করবেন বলে জানান। কিন্তু বাবা-মায়ের মধ্যে অশান্তি হতই। তাই এই বার্তাকে প্রথমে বিশেষ বার্তা দিতে চাননি তিনি।
বুধবার রাতে মোরাঘাট জঙ্গলের ভেতর থেকে চুমকি রায়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের পরই তল্লাশি শুরু করে পুলিশ ও বনদফতর। রাতভর জঙ্গলে চিরুনি অভিযান চালিয়েও বিমল রায়ের কোনও সন্ধান মেলেনি।
বৃহস্পতিবার সকালে ফের বনদফতরের কর্মীরা তল্লাশি শুরু করেন। সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ তাঁরা একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় বিমল রায়ের দেহ দেখতে পান। ঘটনাস্থলটি ছিল আগের দিন চুমকি রায়ের দেহ উদ্ধারের স্থান থেকে প্রায় ৫০ ফুট দূরে। মৃতদেহের পায়ে রক্তের দাগও লক্ষ্য করা যায় বলে জানা গিয়েছে। ফলে এই মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে রহস্য আরও বেড়েছে।
স্বামীর দেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) সৌতম বন্দ্যোপাধ্যায় , ধূপগুড়ি মহকুমা পুলিশ আধিকারিক অরিন্দম পাল চৌধুরী এবং বানারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (আইসি) সুরজ থাপা। তাঁদের নেতৃত্বে ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু হয়।