
পটাশপুর: জম্মু ও কাশ্মীরে বেড়াতে গিয়ে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন পূর্ব মেদিনীপুরের এক মহিলা। মৃতের নাম যমুনা ঠাকুর (৪৯)। তিনি পটাশপুর ২ নম্বর ব্লকের খাড় অঞ্চলের বহড়দা গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুই যাত্রী সেখানকার সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর পশ্চিম মেদিনীপুরের জাহালদা থেকে একটি বাসে করে ৬৫ জন যাত্রী জম্মু-কাশ্মীরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। ভ্রমণার্থীদের অধিকাংশই ছিলেন এগরা মহকুমা এলাকার বাসিন্দা। ফেরার পথে গত শনিবার ভোররাত তিনটে নাগাদ জম্মুর রামবানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি একটি পাথরে সজোরে ধাক্কা মারে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ব্রেক ফেল করার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। বাসের প্রায় সব যাত্রীই কমবেশি জখম হন। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা যমুনা ঠাকুরকে মৃত ঘোষণা করেন। রবিবার নিহতের বাড়িতে যান পটাশপুর ২ ব্লকের বিডিও, জয়েন্ট বিডিওসহ অন্যান্য আধিকারিকরা।
সড়কপথে জম্মু থেকে দেহ রাজ্যে ফেরাতে ৪ দিন সময় লাগবে, ফলে পচনের ঝুঁকি থাকায় পরিবারের সম্মতিতে জম্মুতেই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এগরার মহকুমাশাসক করমবীর কেশব জানান, শেষকৃত্যে যোগ দিতে পরিবারের ৪ জন সদস্যকে শিয়ালদহ থেকে ‘হামসফর এক্সপ্রেস’-এর ৩-টায়ার এসি ক্লাসে জম্মু পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতায়াত ও অন্ত্যেষ্টির সমস্ত খরচ প্রশাসন বহন করবে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আহত ১২ জন যাত্রীকে ‘হিমগিরি এক্সপ্রেস’-এ বাড়ি ফেরানোর টিকিট বুক করা হয়েছে। আটকে থাকা বাকি ভ্রমণার্থীদের একটি রিজার্ভ বাসে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে।