Jhargram: ৩ কোটি ২৮ লক্ষের রাস্তার কাজ ‘সম্পূর্ণ’, বোর্ডের লেখা পড়ে এগোতেই যা দেখা গেল…

Jhargram PMGSY Road Corruption: স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও প্রকার সহযোগিতা করেননি। অথচ, বোর্ড লেখা রয়েছে, আগামী পাঁচ বছর রাস্তার রক্ষণাবেঙ্গণের দায়িত্ব ঠিকাদার সংস্থার। এর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০ লক্ষ ৪১ হাজার টাকা। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, "আরও বৃষ্টি হওয়ার আগে রাস্তা ঠিক করে আমাদের চলাচলের যোগ্য করে দেওয়া হোক।"

Jhargram: ৩ কোটি ২৮ লক্ষের রাস্তার কাজ সম্পূর্ণ, বোর্ডের লেখা পড়ে এগোতেই যা দেখা গেল...
অসম্পূর্ণ থাকার পরও রাস্তার কাজ সম্পূর্ণ বলে লেখা, সরব স্থানীয় বাসিন্দারা Image Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: সঞ্জয় পাইকার

Jul 22, 2026 | 9:55 AM

বিনপুর: প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার রাস্তা। পথের ধারে টাঙানো বোর্ড বলছে, ২০২৫ সালের এপ্রিলে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছিল। আর তা শেষ হয়েছে চলতি বছরের ১ এপ্রিল। কিন্তু, রাস্তার চিত্র তা বলছে না। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাস্তা সংস্কারের কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই পাততাড়ি গুটিয়ে চলে গিয়েছে ঠিকাদার সংস্থা। বর্ষার শুরুতেই বেহাল দশা হয়েছে রাস্তার। যাতায়াত করা যাচ্ছে না। ঘটনাটি ঝাড়গ্রামের বিনপুরের। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বিনপুরের বিজেপি বিধায়ক প্রণত টুডু।

বিনপুর ২ ব্লকের নারায়ণপুর থেকে ঝাড়খণ্ডে ঢোকার গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি সংস্কারের দায়িত্ব পেয়েছিল ‘মাইতি কনস্ট্রাকশন’ নামে এক ঠিকাদার সংস্থা। চলতি বছরের এপ্রিলে কাজ শেষের বোর্ড টাঙিয়ে চলে যায় তারা। বোর্ডে লেখা রয়েছে, রাস্তা সংস্কারের জন্য ৩ কোটি ২৮ লক্ষ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় রাস্তাটি সংস্কারের কাজ হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঠিকাদার সংস্থার এই চরম গাফিলতি ও দুর্নীতির মাশুল গুনতে হচ্ছে তাঁদের। অল্প বৃষ্টি হতেই রাস্তার উপর তৈরি হওয়া দুটি কজওয়েতে জল বেড়ে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এলাকা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও প্রকার সহযোগিতা করেননি। অথচ, বোর্ড লেখা রয়েছে, আগামী পাঁচ বছর রাস্তার রক্ষণাবেঙ্গণের দায়িত্ব ঠিকাদার সংস্থার। এর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০ লক্ষ ৪১ হাজার টাকা। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, “আরও বৃষ্টি হওয়ার আগে রাস্তা ঠিক করে আমাদের চলাচলের যোগ্য করে দেওয়া হোক।” তাঁদের বক্তব্য, সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। নবনির্মিত এই রাস্তায় পিচের কোনও আস্তরণই দেওয়া হয়নি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, “সম্পূর্ণ দুর্নীতি করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। না হলে মাঝপথে ঠিকাদার পালিয়ে যায় কী করে?” এই রাস্তার উপর দিয়েই যাতায়াত করেন তৃণমূলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি চিন্ময় মাহাতো (বুবাই)। অভিযোগ, তৃণমূলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি কাটমানি নিয়েছেন। অভিযোগ নিয়ে তৃণমূল নেতার কোনও জবাব পাওয়া যায়নি।

টিভি৯ বাংলার প্রতিনিধি যোগাযোগ করেছিলেন ওই ঠিকাদার সংস্থার মালিকের সঙ্গে। তিনি এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি। এই নিয়ে তৃণমূলকে নিশানা করে বিজেপি বিধায়ক প্রণত টুডু বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে যা তৈরি হয়েছে, সবেতেই গলদ, অসমাপ্ত। এগুলো সাধারণ মানুষের চলাচলের উপযোগী করে তোলা হবে।”

Follow Us