
ঝাড়গ্রাম: জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ফুটবলের মানচিত্রে এক সোনালি ইতিহাস রচনা। জঙ্গলমহলের কিশোর ফুটবলাররা চ্যাম্পিয়ন ট্রফি নিয়ে জেলায় পা রাখতেই বাঁধভাঙা আবেগে মাতলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গভীর রাতেও উৎসবের মেজাজে দেখা গেল গোটা শহরকে। ১৭ বছর পর ইতিহাস গড়ল ঝাড়গ্রামের স্কুল।
প্রদীপ জ্বালিয়ে, চন্দনের ফোঁটা ও ফুলের মালা পরিয়ে ঘরের ছেলেদের রাজকীয় সংবর্ধনা জানানো হয় সুব্রত কাপ জয়ী মানিকপাড়া বিবেকানন্দ স্কুলের খেলোয়াড়দের। তারা পৌঁছাতেই গভীর রাতে শহর জুড়ে বেরোয় বর্ণাঢ্য বিজয় মিছিল, চলে মিষ্টিমুখ। মিছিল পাঁচমাথা মোড়ে ঝাড়গ্রামের বিধায়ক জেলা প্রশাসন, মহকুমা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, স্থানীয় কয়েকটি ক্লাবের তরফে সম্বর্ধনা দেওয়া করা হয়।
সুব্রত কাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টের অনূর্ধ্ব-১৫ (সাব-জুনিয়র) বিভাগে শক্তিশালী অসমকে ১-০ গোলে পরাজিত করে শিরোপা ছিনিয়ে নিয়েছে বাংলার এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুলটি। জঙ্গলমহলের কোনও বিদ্যালয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক স্তরের এই ঐতিহ্যবাহী টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নজির এটাই প্রথম।
এর আগে ২০০৯ সালে কলকাতার সুকান্ত বিদ্যালয় নিকেতন নাগাল্যান্ড কোহিমার চ্যারিটি স্কুলকে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষবার এই ট্রফি জিতেছিল। পরবর্তীতে ২০১২ সালে কলকাতার কল্যাণগড় বিদ্যামন্দির ফাইনালে পৌঁছালেও নাগাল্যান্ডের কাছে হেরে রানার্স হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সেই আক্ষেপ মুছে দিয়ে ২০২৬ সালে বাংলার স্কুল ফুটবলের গৌরব পুনরুদ্ধার করল জঙ্গলমহলের মাণিকপাড়া বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠ।
তবে এই জয়ের নেপথ্যের লড়াইটা সহজ ছিল না। বিদ্যালয়ের নিজস্ব খেলার মাঠ নেই, স্থানীয় ক্লাবের মাঠেই চলেছে অবিরাম অনুশীলন। এর আগে চারবার জাতীয় স্তরের সুব্রত কাপে অংশ নিয়েছে এই স্কুল। অতীতে একবার সেমিফাইনালে পৌঁছেও স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা নিয়ে ফিরতে হয়েছিল। সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে এবার এল সাফল্য।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শৈবাল মহাপাত্র জানান, সীমিত পরিকাঠামোর মধ্যেও ছেলেরা অদম্য জেদে এই অসাধ্য সাধন করেছে। তিনি বলেন, “স্কুলে পরিকাঠামোর যথেষ্ট অভাব রয়েছে। আগামী দিনে একটি ভালো মানের হোস্টেল ও স্থায়ী খেলার মাঠের ব্যবস্থা করা গেলে ছেলেরা আরও বড় মঞ্চে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে।”
স্কুলের এই অভূতপূর্ব সাফল্যে উচ্ছ্বসিত জেলা প্রশাসন। ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক আকাঙ্খা ভাস্কর জানান, বিদ্যালয়ের পরিকাঠামোগত ঘাটতি দ্রুত পূরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও এই প্রতিভাবান ফুটবলারদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ও উন্নত ব্যবস্থার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।