
কাকদ্বীপ: ৮ বছর পর বিচারের পথে। সিপিএম কর্মী দম্পতি হত্যাকাণ্ডে চার্জশিট দিল সিট (SIT)। কাকদ্বীপের বুধাখালিতে সিপিএম কর্মী দম্পতি দেবু দাস ও ঊষারানী দাসকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় অবশেষে চার্জশিট জমা দিল বিশেষ তদন্তকারী দল। জানানো হল, বাড়িতে অগ্নিকাণ্ড নয়, পুড়িয়েই মারা হয়েছিল ওই দম্পতিকে।
২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগের রাতে, বুধাখালির বাসিন্দা সিপিএম কর্মী দম্পতি দেবু দাস ও ঊষারানী দাসের মৃত্যু হয় অগ্নিদ্বগ্ধ হয়ে। তবে পরিবারের দাবি ছিল, খুন করা হয়েছে তাঁদের। পরিকল্পিতভাবে পুড়িয়ে মারা হয় তাঁদের। অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে।
এর পরে দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও, কোনও বিচার হয়নি। রাজ্যে পালাবদলের পরই গত জুন মাসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁদের ছেলে দীপঙ্কর দাস। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী পুলিশকে আইনত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর দীপঙ্কর দাস কাকদ্বীপ থানায় নতুন করে দশ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। এরপরই গ্রেফতার করা হয় ১০ জনকে। ধৃতরা সকলেই তৃণমূল কর্মী।
এই ঘটনায় দীর্ঘ তদন্তের পর ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করা হয় আজ। তদন্তকারীদের দাবি, রাজনৈতিক আধিপত্য ও জমি দখলকে কেন্দ্র করেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল।
অভিযোগ, কাকদ্বীপের ওই এলাকায় রাজনৈতিক সংঘাতের জেরে সিপিএম কর্মী দম্পতির উপর হামলা চালানো হয়। পরে তাঁদের পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার তদন্তে একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেন তদন্তকারীরা। অবশেষে ১০ জনের নামেই চার্জশিট জমা পড়ায় মামলাটি নতুন করে গতি পেল।