
মালদহ: মালদহ জেলা পরিষদের মতোই একই ছবি দেখা গেল ইংরেজবাজার পুরসভায়। পরপর দুদিনেই দু জায়গায় ক্ষমতা বদল মালদহ (Malda) জেলায়। চেয়ারম্যান হলেন অম্লান ভাদুড়ি। মঙ্গলবার দেখা গিয়েছে, মাত্র ৪টি আসন থাকা সত্ত্বেও মালদহ জেলা পরিষদ এসেছে বিজেপির হাতে। আর এবার মাত্র ৩টি আসন নিয়ে প্রথমবার গেরুয়া হল ইংরেজবাজার পুরসভা।
অম্লান ভাদুড়ি ছাড়া আর মাত্র ২ জন বিজেপির কাউন্সিলর ছিলেন ইংরেজবাজার পুরসভায়। পুরসভায় মোট কাউন্সিলরের সংখ্যা ২৫। ১১ জন তৃণমূলত্যাগী কাউন্সিলর সমর্থন করায় বোর্ড গঠন করতে পেরেছে বিজেপি।
অম্লান ভাদুড়ির সাফ কথা, “আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বোর্ড গঠন করেছি। তাঁর ব্যাখ্যা, বিজেপির দুই কাউন্সিলরের মধ্য়ে একজন তাঁর নাম প্রস্তাব করেছেন, অপরজন সমর্থন করেছেন। আর তৃণমূল কংগ্রেসের যে কাউন্সিলররা ছিলেন, তাঁদের মধ্যে ভাগাভাগি হয়ে গিয়েছে। তাঁরা কেউ প্রার্থীই দিতে পারেননি। স্বাভাবিকভাবেই আমরা বোর্ড গঠন করলাম।”
বিজেপির কাউন্সিলর সুতপা মুখোপাধ্যায়কে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বলেন, “ওদের কেউ দাঁড়ানোর হিম্মত দেখায়নি। কারও সাহায্য নিতে হয়নি। আমাদের একজন প্রস্তাব করেছে, একজন সমর্থন করেছে। অম্লান ভাদুড়ি চেয়ারম্যান হয়ে গিয়েছেন।”
সুতপার কথায়, “মানুষের কাজ করতে চাইছি। আমাদের কর্মীরা এতদিন ধরে যে লড়াই করছে, তারা যেন ভালো জায়গা পায়।” তবে এই বিষয়টাকে বিজেপির তৃণমূলীকরণ বলতে রাজি নয় বিজেপি। তাঁরাবলছেন, ‘তৃণমূল বলে কিছু নেই’।
বুধবার সকালে ১১ জন কাউন্সিলর নিজেদের নির্দল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মহকুমা শাসকের কাছে তাঁরা চিঠিও দিয়ে এসেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, ১১ জন মিলেই নির্দল হিসেবে পরিচয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসডিও জানিয়েছেন, তাঁর কাছে নথি জমা পড়েছে।
জেলা পরিষদেও দেখা গিয়েছে একই ছবি। দলের নির্বাচিত সদস্য ছিল মাত্র ৪ জন। তারপরও এই প্রথমবার মালদহ জেলা পরিষদের দখল নিয়েছে বিজেপি। জেলা পরিষদের সভাধিপতি নির্বাচিত হয়েছেন হবিবপুর থেকে বিজেপির টিকিটে জয়লাভ করা সদস্য দীপালি বালা।