Malda: তৃণমূল গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের বিলাসবহুল ফার্ম হাউস, প্রশ্ন উঠতেই এল জবাব

Malda Panchayat Chief Corruption Allegations: অভিযোগকারীদের বক্তব্য, তৃণমূল সরকারের আমলেও একাধিকবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। তাই এবার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

Malda: তৃণমূল গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের বিলাসবহুল ফার্ম হাউস, প্রশ্ন উঠতেই এল জবাব
গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের ফার্ম হাউসImage Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: সঞ্জয় পাইকার

Jul 05, 2026 | 7:58 PM

মালদহ: গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান। তাঁরই বিলাসবহুল ফার্ম হাউস। অভিযোগ, ১০০ দিনের কাজের টাকা, রাস্তার টাকা, কেন্দ্রের পঞ্চদশ অর্থবর্ষের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে ওই ফার্ম হাউস করেছেন তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান। অভিযোগ দায়ের করে তৃণমূল প্রধানকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের জন্য জাল সইও করা হয়েছে। উত্তেজনা মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

অভিযুক্ত প্রধানের নাম মোসাম্মৎ সেতারা খাতুন। হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লকের মালিওর–১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তিনি। তাঁর ছেলে ঠিকাদার। মোসাম্মৎ সেতারা খাতুন এবং তাঁর স্বামী আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হয়েছে ব্লক প্রশাসন থেকে শুরু করে জেলাশাসকের কাছেও। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বিক্ষোভে সামিল হন এলাকার একাংশ বাসিন্দা। একই দাবিতে সরব হয়েছে বিজেপিও।

অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে প্রধান নিজের বাড়িতে একটি বিলাসবহুল ফার্ম হাউস নির্মাণ করেছেন। এছাড়াও ১০০ দিনের কাজ, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের প্রকল্প, রাস্তা নির্মাণ, কমিউনিটি টয়লেট, সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এবং কমিউনিটি হল-সহ একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁদের আরও দাবি, প্রধানের ছেলে ফিরোজ খানের নামে থাকা ঠিকাদারি লাইসেন্স ব্যবহার করে অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে স্বজনপোষণ করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সরিফুল ইসলাম, মাসুদ আলম ও সফিকুল ইসলামের অভিযোগ, ১০০ দিনের কাজের প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা এবং পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা প্রধানের ছেলের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। তাঁদের আরও দাবি, প্রধান একজন মহিলা হলেও বাস্তবে পঞ্চায়েতের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন তাঁর স্বামী তৃণমূল নেতা আব্দুর রহমান। এমনকি প্রধানের স্বাক্ষর জাল করে বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনও করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সরকারি প্রকল্পের অর্থ ব্যবহার করে প্রধানের বাড়িতে বিলাসবহুল ফার্ম হাউস নির্মাণ করা হয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন। কী নেই সেখানে। বিলাসবহুল বাগান বাড়ি, পুকুর, পার্ক। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, তৃণমূল সরকারের আমলেও একাধিকবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। তাই এবার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তৃণমূল প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে বিজেপি নেতা ওমপ্রকাশ ঘোষ বলেন, “বিজেপি সরকারের প্রধান কথা জিরো টলারেন্স। প্রধানের স্বামী কী করে বিলে সই করেন, আমার জানা নেই। বিডিও ও আইসি-র কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে। এই অভিযোগ জেলাশাসক ও পঞ্চায়েত মন্ত্রীর কাছেও যাবে। গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের বিলাসবহুল ফার্ম হাউসের অর্থের উৎস তদন্ত করে দেখা দরকার। তৃণমূলের উপর থেকে নিচ পর্যন্ত জালিয়াতি।”

গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মোসাম্মৎ সেতারা খাতুন

অভিযোগ অস্বীকার প্রধানের-

তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান মোসাম্মৎ সেতারা খাতুন ও তাঁর স্বামী আব্দুর রহমান। প্রধান মোসাম্মৎ সেতারা খাতুন বলেন, “এইগুলো সব মিথ্যে অভিযোগ। আমার বিরুদ্ধে অনাস্থা ডেকেছে। সেজন্যই এসব বলছে। আমার ছেলেও একজন ঠিকাদার। সে কি কাজ পাবে না?” ফার্ম হাউস নিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের কি কিছু নেই? পঞ্চায়েত প্রধান হওয়ার পর এসব করেছি, নাকি ২০ বছর আগে করেছি সেটা দেখুন।” তাঁর স্বামীই পঞ্চায়েতের কাজকর্ম দেখেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তাও অস্বীকার করেন প্রধান। বলেন, “আমি পঞ্চায়েতে যাই।”

অন্যদিকে প্রধানের স্বামী আব্দুর রহমান বলেন, “এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমাদের ফাঁসানোর জন্য এটা বলা হচ্ছে। স্কিমের কাজ হওয়ার পরই পেমেন্ট হয়েছে। আমাদের গ্রাম পঞ্চায়েতে ৪০-৪৫টি ঠিকাদার সংস্থা রয়েছে। তার মধ্যে আমার ছেলে একজন। অন্যদের মতো ও কাজ পেয়েছে।”

Follow Us